আবু জাহিরের সাম্রাজ্যের পতন: ৫ আগস্টের আগেই হবিগঞ্জে বিজয়ের সূচনা
সারাদেশে ৫ আগস্টের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘিরে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তার আগের দিন ৪ আগস্টই ছাত্র-জনতার উত্তাল প্রতিরোধে বিজয়ের পতাকা ওড়ে হবিগঞ্জে। টানা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, পতন ঘটে ‘দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ’ খ্যাত প্রভাবশালী সাবেক এমপি আবু জাহিরের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের।
ফিরে দেখা রক্তঝরা সেই দিনগুলো
১৬ ও ১৮ জুলাই: বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে সূচনা। প্রথম দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের বাধার মুখে পড়লেও ১৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরে টানা চার ঘণ্টা সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
২ আগস্ট: জুম্মার নামাজের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণমিছিলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ জনতা পাল্টা ধাওয়া দেয়। পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের যৌথ প্রতিরোধের মুখেও ছাত্র-জনতা অবস্থান ধরে রাখে। ছয় ঘণ্টার সংঘর্ষে মোস্তাক মিয়া (২৮) নামের এক পিডিবি কর্মী নিহত হন।
৩ আগস্ট: সকালে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত মহড়া হলেও বিকেলে পুরো শহর এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা।
৪ আগস্ট (চূড়ান্ত পতন): এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বানে দুপুরে বৃন্দাবন কলেজ থেকে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক মিছিল বের হয়। টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে আবারও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে রিপন শীল নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তীব্র প্রতিরোধের মুখে সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থান ত্যাগ করে এমপি আবু জাহিরের বাসভবনে আশ্রয় নেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদসহ শীর্ষ নেতারা।
বাসার ছাদ থেকে গুলিবর্ষণ করা হলেও ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা চারদিক থেকে ভবনটি ঘিরে ফেলে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। আবু জাহিরসহ নেতারা ভবনের চারতলায় আটকা পড়লে রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনী এসে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর বানিয়াচং ছাড়া পুরো জেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং হবিগঞ্জে ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: