৪২ বছর পর জাতিসংঘে বাবার স্মৃতি জাগিয়ে জহরত আদিব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, এমপি। ৪২ বছর পর একই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে তিনি একদিকে বিরল সম্মান, অন্যদিকে পরিবারের জনসেবার ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী জানান, তাঁর মরহুম পিতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৪২ বছর পর একই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে তিনি চিরস্মরণীয় সৌভাগ্য এবং পারিবারিক জনসেবার ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার বিরল সম্মান হিসেবে দেখছেন।
এবারের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তিনি তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন। ওই ভাষণে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পুনর্গঠন এবং বিশ্বের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকেও জাতীয় গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
জাতিসংঘের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও নিজের অভিমত তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, সংঘাত, ভূরাজনৈতিক বিভাজন ও সম্পদের সংকটের কারণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, রোহিঙ্গা সংকট এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোতে নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বহুপাক্ষিকতা থেকে সরে আসার পরিবর্তে এই ব্যবস্থাকে সব দেশের জন্য আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ করে তোলাই সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
অধিবেশনের বিভিন্ন আলোচনায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। জলবায়ু ও বৈশ্বিক সমতা নিয়ে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি, সুশাসন, প্রতিনিধিত্ব ও বৈচিত্র্য নিয়ে সেনেগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমিনাতা তুরে এবং বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্য তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
মানবাধিকার, জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ায় সরকারি প্রতিনিধিদল, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে নতুন দায়িত্ববোধের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখে বিশ্বের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, “আমার প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। আর আমার জন্য জনসেবার প্রতি এক অব্যাহত অঙ্গীকার।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: