সুনামগঞ্জ-১ আসন
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জেগে উঠছে হাওরের জনপদ
হাওরের হাওয়া যেন আজ রাজনীতির সুবাসে ভরপুর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সুনামগঞ্জের গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। চা-স্টলের ধোঁয়া, নদীর পাড়ের গল্প, কিংবা হাওরের ঢেউ—সব জায়গায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু “কে আসছে সুনামগঞ্জ-১ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে?”
তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা—এই চার উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত বিশাল এ আসনটি শুধু আয়তনেই নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ। টাংগুয়ার হাওর, নিলাদ্রী লেক, শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী—প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই এলাকা এখন রাজনীতির উত্তাপে উত্তাল।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন অনেক আগেই। কেউ মোটরসাইকেলের বিশাল মিছিল নিয়ে জনতার দৃষ্টি কাড়ছেন, কেউবা সামাজিক অনুষ্ঠানে মানুষের মন জয় করছেন বিনয়ের হাসিতে। তাদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিন ব্যস্ত থাকছেন চায়ের দোকানে আড্ডায়, ফেসবুকে পোস্টে—“আমরাই আনবো পরিবর্তন!”
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য বলছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ জন। নারী-পুরুষ মিলে সবাই এখন অপেক্ষায়, কে হবেন তাদের আগামী দিনের প্রতিনিধি।
বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে আছেন অন্তত সাতজন সক্রিয় প্রার্থী। তাদের মধ্যে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি আনিসুল হক, কামরুজ্জামান কামরুল ও সালমা নজির—এই তিনজন নাম এখন প্রতিটি হাট-বাজারে, প্রতিটি গ্রামীণ চায়ের আড্ডায় উচ্চারিত হচ্ছে।
আনিসুল হক—তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থেকেছেন দুর্যোগে, দুর্বিপাকে। মানুষের মুখে মুখে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় “ভরসার নেতা” হিসেবে।
কামরুজ্জামান কামরুল—তরুণ, উদ্যমী, প্রাণবন্ত। চার উপজেলার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দিনরাত। তরুণদের কাছে তিনি এখন আশার প্রতীক।
আর সালমা নজির—প্রয়াত সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সহধর্মিণী। স্বামীর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে নেমেছেন মাঠে। তাঁর চোখে দেখা যায় অদম্য আত্মবিশ্বাস—“এই আসন একদিন আবার ধানের শীষে ভরবে।”
জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খানও পিছিয়ে নেই। গ্রামীণ জনপদে মানুষের কাছে গিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তিনি।
হাওরের ঢেউয়ের মতোই নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষায় এখন পুরো এলাকা। তবে একটাই কথা আজ সকলের মুখে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: