ছাতকে বিদ্যুৎ বিভাগে দুর্নীতি : তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তোপের মুখে গণমাধ্যম কর্মীরা
Led Bottom Ad

গণমাধ্যমকর্মীসহ ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বিদ্যুৎ অফিসের

ছাতকে বিদ্যুৎ বিভাগে দুর্নীতি : তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তোপের মুখে গণমাধ্যম কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

১০/১১/২০২৫ ২২:০৮:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাউবো) ও বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে (বিউবো) দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। এসব অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে রোববার দুপুরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তোপের মুখে পড়েন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার একাধিক গণমাধ্যমকর্মী।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি আড়াল করার প্রচেষ্টায় ছাতক বিদ্যুৎ বিভাগ সাতজন গণমাধ্যমকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান মোহাম্মদ রুহেলকে গত ২৬ অক্টোবর বকেয়া বিলের মামলায় আকস্মিকভাবে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। অথচ তাঁর কোনো বকেয়া বিলই ছিল না। পরে জানা যায়, প্রকৃত বকেয়া বিলধারী নাজমুল হুদার (মিটার নং ৪৪২৭৩০৭০) ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে জাহিদ হাসানকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৭ নভেম্বর মণ্ডলীভোগ এলাকায় মিটার চেক করার নামে বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ ও ভাঙচুর চালান। ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল খায়ের থানায় অভিযোগ দিলে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বিষয়টি রফাদফার উদ্যোগ নেন বলে জানা যায়।

রোববার দুপুরে বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদকর্মীরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অনিয়মের বিষয়ে জানতে গেলে প্রায় ৪০ মিনিট তাঁদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে বৈঠক করেন তিনি। পরে প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো উপস্থিত সাংবাদিকদের মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এসময় সাংবাদিকরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রকৌশলী কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে থানার ওসিকে ফোন করে দপ্তরে ‘ঝামেলা’ হচ্ছে বলে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ এসে পরিস্থিতি বুঝে হতবাক হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে আপোষের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুক মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আলী নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে প্রকৌশলীকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেন না। অভিযোগ দিয়েও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।”

দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি শাহ মো. আখতারুজ্জামানসহ সংবাদকর্মীরা বলেন,“তথ্য জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে তিনি যে আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাউবো’র সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বলেন,“গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ করার কথা নয়। যদি এমন হয়ে থাকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad