আত্মবন্ধন
Led Bottom Ad

আত্মবন্ধন

মনোয়ার পারভেজ

২৬/১১/২০২৫ ২১:১১:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আমি সবচেয়ে বেশি কথা বলি নিজের সাথে। এটা শুধুমাত্র যে আমার ক্ষেত্রেই ঘটে তা কিন্তু সঠিক নয়। খুব সম্ভবত জগত জুড়ে অধিকাংশ মানুষ'ই সবচেয়ে বেশি কথা বলে থাকে নিজের সাথে। হয়তো সবাই সেটা বুঝতে পারেনা আর নয়তো স্বীকার করতে চায় না। আমি কিন্তু আমার একাকিত্বের সময় গুলো বেশ উপভোগ করি নিজের সাথে কথা বলে। এইজন্য একাকিত্ব আমাকে কখনও হতাশ করেনা। বরং নিজের অনেক কাজ গুছিয়ে নেওয়া যায়, অনেক কিছুই মুক্ত ভাবে চিন্তা করা যায়, প্রশ্ন করা যায় নিজেকে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে নিজের সাথে আবার কেমন করে কথা বলে? এইযে যেমন একা একা কথা বলা, মনে মনে চিন্তা করা, নিজেকে প্রশ্ন করা, নিজেই নিজের উত্তর দেওয়া, উত্তর খোঁজা ইত্যাদি। নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার মধ্যে একটা তৃপ্তি আছে। এটা যে চর্চা করে সেই বুঝবে, বাকিরা তো সবাই পাগল বলবে। মানুষের পাগল ভাবাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেননা মানুষের মধ্যে একটা ধারণা জন্মে এসেছে যে পাগলেরাই শুধু একা একা কথা বলে। তখন বলতে হয়, লোকের কথা লোকে বলুক, আমার এভাবেই চলুক। নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার অভ্যাস থাকলে নিজের একান্ত কথা গুলো শত্রুর কাছে প্রকাশ হওয়ার চিন্তা থাকে না। পাগলের একা কথা বলা আর একজন সুস্থ মানুষের একা কথা বলার বিষয় কিন্তু এক নয়। এটা আমাদের স্বাভাবিক মানুষদের বুঝতে হবে। একজন সুস্থ মানুষ নিজের সাথে একাকিত্বের বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে নিজেই নিজের বন্ধু হতে চেষ্টা করে। আর নশ্বর পৃথিবীতে নিজেই নিজের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে হয়। নিজেই নিজের বন্ধু হতে পারলে নিজেকে চেনা যায়, নিজেকে জানা যায়। কেননা নিজের চেনার মাধ্যম হচ্ছে নিজের সাথে কথা বলা তাঁর একটা মাধ্যম। পৃথিবীর অনেক মনীষীই আগে নিজেকে চেনার কথা বলেছেন। তাই বলি, পৃথিবীকে দেখার আগে নিজেকে দেখো। নিজেকে নিজের দখলে রেখো। 


নশ্বর পৃথিবীর ইশ্বর ছাড়া যখন সত্যিই কেউ কারো জন্যে নয় তখন নিজেই নিজের। যদিও হয় তা খুব অল্প সংখ্যক। আর এই নশ্বর পৃথিবীতে জীবন বলতেই একটা সংগ্রাম। এখানে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয়, জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। সুতরাং এই নশ্বর পৃথিবীতে প্রেম -প্রীতি বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রেম - প্রীতি এর গভীরতার মধ্যে যাদের জীবন আটকে যায় তারাই জীবনে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়, তারাই খুব সহজে কষ্ট পায় এবং জীবন সংগ্রামে ভীত হয়ে আত্মহত্যার উপক্রম পর্যন্ত চলে যায়। অথচ প্রেম সবসমই বিলাসিতা। আর এই বিলাসিতার প্রেম সবার জন্যে নয়। তাই বলে আমি প্রেম - প্রীতির বিপক্ষের কেউ নই। সেটা অবশ্যই থাকতে হয় নির্দিষ্ট সীমা রেখা পর্যন্ত। কেননা সবকিছুই একটা সীমা রেখার মধ্যে চলে। নিজের সীমা রেখা অতিক্রম করে প্রেম প্রীতিতে জড়িয়ে যাওয়া এক তরফা ভালোবাসার মতো। এই এক তরফা ভালোবাসার প্রণয় ঘঠিত না হওয়ার মূলে হচ্ছে নিজের সত্তাকে চিনতে না পারা বা নিজ সত্তা সম্পর্কে না জানা। নিজ সত্তার সীমা রেখা জানার জন্যেই নিজেকে চিনতে হয়, জানতে হয়। যেভাবে নিজের নির্দিষ্ট সীমা রেখা পর্যন্ত চলতে সুবিধা হয়। যেভাবে নিজেকে চিনলে নিজের হুশ কাটিয়ে চলা যায়। মহান সৃষ্টিকর্তা মনুষ্য জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিশাবে পাঠিয়েছেন কেন? এজন্যই এই বিষয়টি মানুষকে হুশ কাটিয়ে চিন্তা করতে হবে। এই হুশ আছে বিদায় আমরা মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব। মহান সৃষ্টিকর্তার চমৎকার সৃষ্টি মানুষ;


দেহের ভিতরে প্রাণ দিলে, আরও দিলে হুশ, 

মাওলা তুমি কি আজব কারিগর -বানাইলা মানুষ !


মানুষের হুশ আছে, জ্ঞান আছে বিদায় মানুষের চিন্তা করার শক্তি আছে। তাই মানুষের চিন্তা করতে হয়, আর এই চিন্তা করতে করতেই নিজের সাথে কথা হয়; যা নিজেকে চেনার অন্যতম একটি উপায়। মানুষ যেমন মরণশীল ঠিক তেমনি বলতে হয় মানুষ বলতেই চিন্তাশীল। মানুষের দেহের যে মস্তিষ্কে চিন্তা নেই সেই দেহ মূলত মৃত। পাগলেরও অবশ্যই তাঁর নিজস্ব চিন্তা আছে। আর এই চিন্তা যখন নিজের জন্য, চিন্তায় নিজের সাথে কথা বলা তখন সেটা আত্মবন্ধন। তাইতো বলি মানুষ সবচেয়ে বেশি কথা বলে নিজের সাথে। চিন্তার মধ্যেমে নিজের সাথে যেমন কথা বলা যায়, নিজেকে যেমন চেনা যায় জানা যায় ঠিক তেমনি মানুষের সুচিন্তার প্রকাশই হচ্ছে তাঁর দর্শন। তখন মানুষের নিজের মধ্যে দর্শনের উপলব্ধি নিজের চিন্তার মধ্যে টের পেয়ে থাকে।


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad