সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজ
সিলেটে তিন শিক্ষার্থীর উৎপাতে অতিষ্ঠ শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা
সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজে তিন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষকের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সময়ে হয়রানি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হুমকি–ধমকি দিয়ে নিজেদের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন। প্রকাশ্যেই তারা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উপর হুমকি দেন। কেউ তাদের কথা না মানলে তারা ভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে কলেজের শৃঙ্খলা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিলেটের বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোর মধ্যে সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজ দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ও পরীক্ষার ফলাফলে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে কলেজটি একদল শিক্ষার্থীর ‘চাপের গ্রুপে’ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিডিএস ৫ম ব্যাচের ছাত্র শাহরিয়ার শহিদ আসাদ ও আব্দুল মতিন মিজান, বিডিএস ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইজাজ শাফিন চৌধুরী এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছেন, যাতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, নাম প্রকাশ করলে, জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তবে এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে প্রতিকার দাবি জানাবেন তারা।
একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, পেশাগত পরীক্ষায় ফেল করা বা নির্দেশনা না মানার মতো কারণ দেখিয়ে তারা নিয়মিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। কয়েক মাস আগে দুজন শিক্ষিকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ তোলার পর তাদেরকে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, এই তিনজন তাদের দলে রাখার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেন। কলেজের পরিসর ছোট এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় অনেকে ভয় পেয়ে বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না।
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগের দুই শিক্ষার্থী অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় দাবি করছেন—কেউ ‘জুলাই পক্ষ’, কেউ ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’, কেউ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর সদস্য ‘ আবার কোনো সংঘর্ষের সময় নিজেদের বিএনপি–জামাতঘেঁষা পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীরা দ্রুত কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য দেননি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইজাজ শাফিন চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দিনে কোনদিন আমি আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠনগুলোর মিটিং,মিছিলে যুক্ত হইনি। বরং জুলাই অভ্যুত্থানে আমার সরব অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করেছে, মূলত তারা সেই ফ্যাসিস্ট দলের দোসর বলে মনে করছি।’
কলেজের অধ্যক্ষ পরিমল চন্দ্র মল্লিক বলেন,‘আমার কলেজে যোগদানের মাত্র একমাস হয়েছে। এমন বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ রকম কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই সেটি খতিয়ে দেখা হবে।’
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: