দুর্ঘটনার আশঙ্কা
দোয়ারাবাজার-শরীফপুর সংযোগ সেতু এখন মরণ ফাঁদ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সঙ্গে সুরমা ইউনিয়নের একমাত্র সংযোগ সেতু—দোয়ারাবাজার-শরীফপুর সেতু এখন স্থানীয় মানুষের জন্য আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়েছে, পাটাতনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সরু সেতু হওয়ায় প্রতিদিন যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
২০০৪ সালে টিলাগাঁও রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। মূলত কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াত সহজ করতে এ সেতুর নির্মাণ হলেও দীর্ঘ ২০ বছরেও কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। বর্তমানে সেতুটির এক পাশে রয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা সদরের মাছ বাজার ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং অপর পাশে সুরমা, লক্ষীপুর ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। ফলে তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে লোহার রড বের হয়ে আছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। পাটাতনের একাধিক স্থানে গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন পারাপার হতে পারে না, ফলে সকাল ও সন্ধ্যায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।
শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাঈদা মাহমুদ বলেন, “প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। সেতুর অবস্থা দেখে সবসময় ভয় কাজ করে—কখন কী ঘটে বলা যায় না।”
দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ আমান জানান, “রেলিং না থাকায় বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় চলাচল খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।”
টেংরাটিলা গ্রামের সিএনজি চালক স্বপন মিয়া বলেন, “সরু সেতুতে গাড়ি পাশ কাটাতে না পারায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কোনো রোগী থাকলে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।”
নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাম্মাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কাঁপে। মনে হয় যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দ্রুত প্রশস্ত ও মানসম্মত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, “নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সেতুর রেলিং ও পাটাতন সংস্কারের প্রস্তাবও রয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।”
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, “শরীফপুর ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কারের জন্য এডিপির বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তবে এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ভারী যান চলাচল বন্ধে প্রতিবন্ধক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয়রা তা ভেঙে ফেলেছে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে দোয়ারাবাজার-শরীফপুর সংযোগ সেতুটি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: