মাহদীর পর আলোচনায় নিহত বানিয়াচংয়ের এসআই সন্তোষ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে আটকের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে তাঁকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে মাহদী হাসান জামিন লাভের পর বানিয়াচংয়ে নিহত এসআই সন্তোষের নাম ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে বলা হচ্ছে-২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ওই দিনই হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পুলিশের গুলিতে শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। পরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বানিয়াচং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজনের সাথে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তাঁরা জানান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে বানিয়াচং শহীদ মিনার এলাকা থেকে একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এসআই সন্তোষের নেতৃত্বে পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।
কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শিশু হোসাইন মিয়া (১২)। এ ছাড়া নিহত হন আশরাফুল (১৭), নয়ন হোসেন (১৮), তোফাজ্জল হোসেন (১৮), মোজাক্কির (৪০), সাদিকুর রহমান (৩০), সুহেল আখঞ্জি, মো. আনাছ মিয়া ও আকিনুর রহমান। আহত হন আরও অনেকে।
নিহতদের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তারা কেউই সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না; পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মাত্র। শিশু হোসাইনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অন্যদিকে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান এসআই সন্তোষ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনার পর বানিয়াচং উপজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: