হবিগঞ্জে লাগামহীন অবৈধ ইটভাটা
Led Bottom Ad

প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না পরিবেশ ধ্বংস

হবিগঞ্জে লাগামহীন অবৈধ ইটভাটা

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৭/০১/২০২৬ ১৪:০৪:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘ইটভাটা তো ছোট জিনিস না যে চোখে পড়বে না। প্রশাসন মানুষের চাপাচাপিতে বা বিশেষ উদ্দেশ্য থাকলে নিয়মরক্ষার অভিযান চালায়। বাস্তবে তারা ভাটাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, বরং নিজেরাই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।’—এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা।

হবিগঞ্জ জেলায় কোনো ধরনের আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে অধিকাংশ ইটভাটা। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তা যে কার্যকর নয়, সে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের দাবি, ভাটামালিকরা নির্বিঘ্নে কৃষিজমি, বসতভিটা এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেও ইটভাটা গড়ে তুলছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ইটভাটার ধোঁয়া ও মাটি কাটার ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট এবং মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। এখনই যদি এসব ভাটা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তর, হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে মোট ৯০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি ভাটার রয়েছে বৈধ কাগজপত্র। বাকি সবগুলোই অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চালু রয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকটি ভাটায় জরিমানা করেছে, তবে তাতে পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনকে নিয়মরক্ষার অভিযান নয়, কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হরিপদ চন্দ্র দাস বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান যদি নিয়মিত ও কার্যকর হয়, তাহলে এতগুলো অবৈধ ইটভাটা বছরের পর বছর কীভাবে বহাল থাকে? প্রশাসনের এই দুর্বলতাই কি অবৈধ ভাটামালিকদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে—সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে হবিগঞ্জজুড়ে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad