জনভোগান্তি চরমে
চুনারুঘাটে এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় আটকে আছে ৮৫৫ নামজারি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নামজারি, ভূমি মামলা ও আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসায় জমি সংক্রান্ত সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জমা পড়া অন্তত ৮৫৫টি নামজারি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা হস্তান্তর ও ব্যাংক লেনদেনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার গত বছরের ১৫ অক্টোবর যোগদান করলেও মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২১ অক্টোবর ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলে যান। এরপর থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে। এতে নামজারি ছাড়াও ভূমি আদালতের মামলা, মিসকেসসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাচ্ছেন না। নুরুল হক ও রাহাতসহ একাধিক সেবাপ্রার্থী বলেন, অনেক আগে জমি কিনলেও নামজারি না হওয়ায় রেজিস্ট্রি করা জমি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু ও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত তদারকি ও আইনগত পদক্ষেপের অভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে চুনারুঘাট উপজেলায় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ না দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সূত্রও স্বীকার করেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারি ও মামলা নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই। নিয়মিতভাবেই তা চালু রয়েছে। তবে বর্তমানে পৌরসভাসহ একযোগে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জনগণের ভোগান্তি কমাতে নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে প্রায় ১০০টি নামজারি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসী দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: