হারমানা জুটি সাদিয়া-দীপ্ত,
মাইনাসে মাইনাসে প্লাস
শিরোনামের সূত্রটি বীজগণিতে বহুল ব্যবহৃত। তবে শব্দটির সাথে ব্যক্তি জীবনেও অদ্ভুত একটি মিল পাওয়া যায়। আজকের শিরোনামের দুই মাইনাস জন হলেন ডা. সাদিয়া তাহসিন এবং শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্ত। একজন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অপরজন কলেজের প্রস্থোডন্টিক্স বিভাগের প্রধান ও কো-অর্ডিনেটর। তাদের দুজনই রয়েছেন শাহজালাল উপশহরস্থ সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজে। ডা.সাদিয়া তাহসিন এই কলেজে যোগদান করেছেন ২০২৪ সালে। এর আগে ঢাকাস্থ সাপ্পোরা কলেজে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেখানে নিজের নৈতিকতা নিয়ে একাধিক মুখরোচক গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অগত্যা সেই কলেজ ছাড়তে বাধ্য হন ডা. সাদিয়া। কিন্তু সিলেটে যোগদানের পরই পূর্বের রূপে আবির্ভুত হন তিনি। এবারে নতুন সঙ্গী পান একই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্ত। ব্যাস! আড়ালে-আবডালে দু’জনের কাহিনী চলতে থাকলেও একসময় পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য হয় তাদের নিয়ে নানা মুখরোচক আলোচনা। এই ঘটনায় কেউ হন ক্ষুব্ধ,আবার কেউবা কলেজের পরিবেশ ধ্বংশ হচ্ছে বলে মনে করেন। কিন্তু মুখ খোলার সাহস নেই কারো। এদিকে ডা. সাদিয়া তাহসিনের প্রেমিক পুরুষ কলেজের শিক্ষার্থী শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্তকে নিয়ে পাওয়া গেছে একাধিক তথ্য। সহপাঠীরা জানিয়েছেন- নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এরও আগে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে একই সময়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই সম্পর্কগুলোর কোনোটিই শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায়নি। ফলে তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবীদের সামনে প্রকাশ পেতে থাকে। একপর্যায়ে তার আচরণে বিরক্ত হয়ে একে একে তারা সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। সবশেষ কথা হলো-চারিত্রিক বৈশিষ্টে সাদিয়া আর দীপ্তর মধ্যে অদ্ভুত মিল থাকায় ক্যাম্পাসে তাদের নাম ছড়িয়ে পড়ে ‘মাইনাস জুটি’ হিসেবে।
এদিকে সাদিয়া-দীপ্তর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবরে গেল বছরের ৯ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে ডা. সাদিয়া তাহসিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়-শিক্ষার্থীর সাথে তাঁর এই অশ্লিল আচরণ কলেজের পরিবেশ বিনষ্ট করার পাশাপাশি সুনাম ক্ষুন্ন করছে। এই অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের সুনাম রক্ষা করে কলেজ ক্যাম্পাসে সকলের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ অধ্যক্ষের মাধ্যমে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। অভিযোগ রয়েছে-সাদিয়ার রূপের ঝলকানিতে থেমে যায় তদন্ত কমিটি। ফলে ফের দাপট বেড়ে যায় এই মাইনাস জুটির।
ডা. সাদিয়া তাহসিন ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজে যোগদান করেন। যোগদানের মাত্র এক মাস পর থেকেই পড়াশোনা ও একাডেমিক কাজের অজুহাতে শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্তর সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক ধরনের নির্ভরতা। সেই নির্ভরতাই একসময় রূপ নেয় গভীর আবেগে, আর আবেগ থেকে জন্ম নেয় প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক মাস আগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে কিছু ছবি ও অডিও ক্লিপ কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। সেখান থেকেই শুরু হয় তদন্ত ও আলোচনা।
কলেজের অন্দরমহলে অনেকেই শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্তকে আড়ালে “কলেজের প্লেবয়” নামে চিনতেন। তবে ভয়ের কারণে বা অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে কেউই তার মুখের সামনে এসব কথা বলার সাহস করতেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সামনে আসার পর পরিস্থিতি এতোটাই ঘোলাটে হয়ে যায় যে আর কেউই বিষয়গুলো চাপা দিয়ে রাখতে পারেননি। ফলে যে গল্প এতদিন ফিসফাস আর কানাঘুষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, অবশেষে সেটিই প্রকাশ্যে এসে কলেজজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ডা: সাদিয়া তাহসিনের বিরুদ্ধে কলেজ অভ্যন্তরে অভিযোগ সীমাহীন। দ্বি-চারিতায় পূর্বের কলেজে চাকুরী হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বভাব বদলায়নি। সেন্ট্রাল কলেজ সেই দ্বি-চারী ভাইরাসে এখন আক্রান্ত। ছাত্র-শিক্ষক-পরিচালনা পর্যদে দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে তার দ্বি-চারী স্বভাবে। যেমন মন চায় তেমনি ফ্রি স্টাইলে চলছেন তিনি। গভীর রাতেও হাওয়া লাগাতে বের হন শহর ছেড়ে দুরেও। ম্যাডামের ফ্রি চালচলনে অনেক ছাত্রও বিব্রত হচ্ছে, কারন ব্যাচ এর মধ্যেও জুনিয়র সিনিয়র রয়েছে, কার কথা কোথায় বয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা থাকে আতংকে। কিন্তু ম্যাডাম ডেম কেয়ার। সবাই কে বাজিয়ে রাখতে পছন্দ তার। শুধু ছাত্র নয়, তার সাথে সখ্যতা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের। যে কারনে ম্যাডামের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের পাত্তা পাওয়া যায়না। সম্প্রতি ডা. তাহিসার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে করেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ক্লাস বয়কট করে ওই শিক্ষিকার অপসারণ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গঠন হয়েছে কমিটিও। প্রিন্সিপাল পরিমল চন্দ্র মল্লিকও লিখিত অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ভাইস প্রিন্সিপাল ডা: মোমিন হকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী ব্যবস্থা। কিন্তু এতে মোটেও বিচলিত নয় ডা: সাদিয়া। নতুন চালে দৌড়াচ্ছেন তিনি। ছলনার জালে ছলা কলা খাইয়ে কিছু ছাত্রকে বশ করে নিয়েছেন, একই সাথে তার মোহনিয়তায় মুগ্ধ তদন্ত সংশ্লিষ্টরাও।
এদিকে তদন্ত কবর দিতে কিছু ছাত্রকে ক্লাস রুমে ডেকে নিয়ে ম্যাডাম সাদিয়ার পক্ষে ভোট নেয়া হয়-এমনটি অভিযোগ কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি-কৌশলে অভিযোগকারীদের বাইরে রাখা হয়। পূর্ব পরিকল্পনার এ নাটকে পাশ করেছেন ডা: সাদিয়া। অথচ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন থেকে ধরে প্রেশিকক্ষে এবং প্র্যাকটিকেল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণের। তাঁর এমন অশোভন অসদাচরণে শ্রেণিকক্ষে অস্বস্তিকর পরিবেশের কথা কলেজের সকলেরই জানা। ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ হুমকির মুখে। শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সুবিবেচনা সাপেক্ষে ডা. সাদিয়া তাহসিন-কে কলেজের সকল পাঠদান থেকে বিরত রাখাসহ প্রেমিক শিক্ষার্থী দীপ্তকে বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছিলনে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই অভিযোগ নারী লোভী কিছু কলেজ সংশ্লিষ্টের কাছে এখন যেন অস্ত্র। তারা এখন ডা; সাদিয়ার দরদী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও ডা. সাদিয়ার প্রেমিক শুভেন্দু বিকাশ কর দীপ্ত বলেন,-এইসব অভিযোগগুলো বানোয়াট। এ সময় ডা. সাদিয়ার মোবাইল নাম্বার জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে নাম্বার প্রদান করেন।
দীপ্ত করের দেওয়া মোবাইল নাম্বার অনুযায়ি অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. সাদিয়া তাহসিনের সেলফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি মন দিয়ে প্রথমে অভিযোগ শ্রবণ করলেও উত্তরের বেলায় জানান, ‘আমি এখন একটু ব্যস্থ আছি তো, পরে না হয় আপনার সাথে এ বিষয়ে কথা বলি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলেজের অধ্যক্ষ পরিমল চন্দ্র মল্লিক জানান, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে আরও কিছু জানতে চাইলে তিনি বলেন-আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: