মাধবপুরে রাতের আঁধারে ছড়ার বালু লুট, হুমকিতে পরিবেশ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাহাড়ি ছড়া ও খাল থেকে রাতের আঁধারে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা না থাকায় এলাকাজুড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, শাহপুর, হরিতলা ও জগদীশপুরসহ একাধিক এলাকায় প্রতিদিন রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ বালু উত্তোলনকারী চক্র। দিনের বেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও রাতের আঁধারে পাহাড়ি ছড়া ও খাল থেকে বেলচা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির সাহায্যে বালু কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে তোলা হয়। ভোরের আগেই এসব বালুবাহী যান এলাকা ত্যাগ করায় দিনের বেলায় কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে। ছড়া ও খালের পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, হঠাৎ বন্যা এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে মাধবপুর অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত বালুমহাল ছাড়া অন্য কোথাও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও মাধবপুরে আইনটির কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম ‘প্রথম সিলেট’ কে বলেন, রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা সঠিক তথ্য দিলে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতভর বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন সব জেনেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মাধবপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: