এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম
শ্রীমঙ্গলে দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা
চায়ের সবুজে মোড়া পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল যেন মুহূর্তেই বদলে গেল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবেশে। ঢাক, কাঁসর আর শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এখানে জন্ম নিল ইতিহাস—দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা। জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এমন বহুমাত্রিক উপস্থাপনা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম—এমনটাই বলছেন আয়োজকেরা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোডসংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও একটি মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমা যেন আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলছে—জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার গল্প।
কোথাও দেবী সরস্বতী জ্ঞানের দীপশিখা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সংগীত, শিল্প ও দর্শনের অনন্য প্রতীক। নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার আর ভাবনাগত গভীরতায় প্রতিটি প্রতিমা দর্শনার্থীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। অনেকেই মুগ্ধ হয়ে বলছেন, এটি শুধু পূজা নয়—এ যেন এক জীবন্ত শিল্পপ্রদর্শনী।
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে দেখছেন, আবার কেউ সন্তানের হাত ধরে বোঝাচ্ছেন দেবী সরস্বতীর নানা রূপের তাৎপর্য।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,‘আমাদের স্বপ্ন ছিল দেবী সরস্বতীকে শুধু বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা। এশিয়ায় প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
সংগঠনের উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র বলেন, এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, শিল্প ও মূল্যবোধের পথে অনুপ্রাণিত করবে।
শ্রীমঙ্গলের এই ব্যতিক্রমী পূজা প্রমাণ করল—ধর্মীয় উৎসব কেবল আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, চাইলে তা হয়ে উঠতে পারে চিন্তা, দর্শন ও মানবিকতার এক মহামিলনমেলা। দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: