ছাতকে বোরো রোপণের ধুম: সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেচ সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত দুই বছর বাম্পার ফলন পাওয়ায় এবারও ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে মাঠে নেমেছেন চাষিরা, তবে অনাবৃষ্টির কারণে হাওর ও বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতকের ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫৫৩ একর। চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৯৯২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাত ৩৪৬ হেক্টর, উপশী ২ হাজার ৯৭১ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ৬৫ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা জমি তৈরি ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অধিকাংশ হাওরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেককেই শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বড় কাপন গ্রামের কৃষক ফখর উদ্দিন জানান, তিনি এবার ১০ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। কিন্তু সেচ সংকটে চারা রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। একই দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীবাউর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, "২০ কিয়ার জমিতে ধান রোপণ শেষ করেছি, কিন্তু সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয়ের ভয় আছে।"
চাষিদের ভাষ্যমতে, গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় হাওরগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে এখন কৃত্রিমভাবে পানি সরবরাহে খরচ ও শ্রম দুই-ই বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খাঁন জানান, গত দুই বছর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় কৃষকরা বোরোতে লাভবান হয়েছেন। ফলে এই অঞ্চলে বোরো আবাদের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সেচ সমস্যা সমাধানে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: