অসম্পূর্ণ গ্যাস লাইন ও রজ্জুপথে আটকে আছে ছাতক সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন
দেশের প্রথম সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আধুনিকায়নের কাজ ৯২ শতাংশ শেষ হলেও এখনও সিমেন্ট উৎপাদনে যেতে পারছে না কারখানাটি। মূলত গ্যাস লাইন মেরামত এবং ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ের (রজ্জুপথ) কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় থমকে আছে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়া।
কারখানাটিকে পুরনো 'ওয়েট প্রসেস' পদ্ধতি থেকে আধুনিক 'ড্রাই প্রসেস' পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে ২০১৯ সালে চীনা কোম্পানি মেসার্স নানাঝিং সি-হোপের সাথে চুক্তি করে বিসিআইসি। ৩ বছরের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রকল্পটি ১০ বছর অতিক্রম করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হলেও রোপওয়ের ভারতীয় অংশের জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোপওয়ের মোট ১১.৭৪১ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু ভারতীয় অংশের ৪.৫৮৮ কিলোমিটারের কাজ এখনও শুরু হয়নি।
ঐতিহাসিকভাবে ভারতের মেঘালয় থেকে রোপওয়ের মাধ্যমে চুনাপাথর সরবরাহ করা হতো। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় ভারত সরকার চুনাপাথর সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরবর্তী সময়ে নিবন্ধন নবায়ন না হওয়া এবং চীনা প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ভারতীয় রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে রোপওয়ের কাজ ঝুলে থাকে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সেই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানাটি পুরোদমে চালু হলে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ টন ক্লিংকার ও ৫০০ টন সিমেন্ট উৎপাদন সম্ভব হবে। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ অংশের কাজ চলমান এবং ভারতীয় অংশের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ২৩০ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।"
সম্প্রতি কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রাই প্রসেস পদ্ধতিতে উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
১৯৩৭ সালে সুরমা নদীর তীরে ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটিতে ১৯৪১ সালে উৎপাদন শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে রজ্জুপথ সংযুক্ত হওয়ার পর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ১৯৮২ সাল থেকে এটি বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে। আধুনিকায়ন প্রকল্পের কারণে গত ৫ বছর ধরে এখানে সিমেন্ট উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: