শান্তিগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধে 'লুটপাটের' ছক: ছোট খালকে বড় ভাঙন দেখিয়ে কোটি টাকা বরাদ্দ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দেখার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষায় নৌকা চলাচলের কারণে সৃষ্ট ছোট ছোট পানির পথ বা ‘দাইড়’কে বড় ভাঙন দেখিয়ে প্রাক্কলন (এস্টিমেট) বাড়িয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রাম থেকে দেখার হাওর পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধে সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের অধিকাংশ জায়গা অক্ষত বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংস্কারের নামে বিশাল অঙ্কের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ কোটি ৪১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে দেখা যাচ্ছে—পুরানো বাঁধের ওপর থেকেই এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি তুলে আবারও উপরে বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল খয়ের ও কৃষক সমুজ আলী জানান, বর্ষায় হাওরে মাছ ধরার জন্য বা নৌকা চলাচলের জন্য বাঁধের ১০-১২টি স্থানে ছোট ছোট পানির পথ তৈরি হয়েছে। এগুলো ভরাট করতে সামান্য খরচ হলেও নজিরবিহীন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গ্রামের মোশাহিদ মিয়া সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "বাঁধ নির্মাণ এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই লুটপাটের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।"
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন এই পরিস্থিতিকে 'পরিকল্পিত দুর্নীতি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "অক্ষত বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে পূর্ণ বরাদ্দ দেওয়া মানেই সরকারের অর্থের অপচয়। পাউবো যে তথ্য দিচ্ছে তা আসলে শুভংকরের ফাঁকি।"
উল্লেখ্য, চলতি বছর সুনামগঞ্জে ৫৯৫ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি উত্থাপন করলে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া তাৎক্ষণিক পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের কাছে ব্যাখ্যা চান। প্রকৌশলী জানান, এটি একটি খসড়া প্রতিবেদন এবং টাস্কফোর্স চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আশ্বস্ত করে বলেন, "বাঁধের বরাদ্দ যৌক্তিক কি না তা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে ‘রি-এস্টিমেট’ করে বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: