লোকসানের মুখে শত শত কৃষক
হবিগঞ্জের সেচ সংকটে ৬০০ একর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। বোরো আবাদের ভরা মৌসুম চললেও সেচের পানির অভাবে প্রায় ৬০০ একর আবাদযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ফসল ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএডিসির (BADC) আওতায় টেন্ডার সম্পন্ন হলেও ঠিকাদার এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা করতে পারেননি। সেচ পাম্প বসানোর নির্ধারিত স্থানটি একটি পক্ষ নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে বাধা প্রদান করায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বারবার ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। ফলে আবাদের উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেলেও এখনো জমিতে লাঙল দিতে পারছেন না কৃষকরা।
হাওরের কৃষক শিহাব মিয়া জানান, তিনি ৪০ মণ ধানের বিনিময়ে ৮ কিয়ার জমি ইজারা নিয়েছেন। ৫ হাজার টাকা খরচ করে তৈরি করা তার বীজতলার বয়স এখন দুই মাস পার হয়ে গেছে। পানির অভাবে চারা রোপণ করতে না পারায় এখন রোপণ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
একই আক্ষেপ ঝরেছে মহসিন মিয়া, মোসতাক মিয়া ও আলী হোসেনের কণ্ঠে। তারা বলেন, "এখন পানি এলেও চাষাবাদ করে খরচ তোলা সম্ভব হবে না। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে আমাদের ভাগ্যে শুধু লোকসানই জুটবে।" পার্শ্ববর্তী হাওরগুলোতে আবাদের ধুম চললেও এই এলাকায় বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা।
আবাদ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষিশ্রমিকরা। বোরো মৌসুমে দিনমজুরি করে যাদের সংসার চলে, কাজ না থাকায় তাদের অনেকেই এখন পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, "সদর ইউনিয়নের একটি বড় অংশে সেচ সমস্যা সম্পর্কে আমরা সম্প্রতি অবহিত হয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।"
দ্রুত পাম্প স্থাপন করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ওই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: