শাল্লায় পিআইসি গঠন নিয়ে চলছে ‘কমিটি বাণিজ্য
Led Bottom Ad

​বরাদ্দ বেড়ে ২৯ কোটি হলেও কাজ স্থবির;

শাল্লায় পিআইসি গঠন নিয়ে চলছে ‘কমিটি বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

২৪/০১/২০২৬ ১৮:৩৬:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের সবচেয়ে দুর্গম ও অবহেলিত উপজেলা শাল্লায় বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ (পিআইসি) নির্মাণে চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। জেলা জুড়ে বাঁধের কাজ পুরোদমে চললেও শাল্লায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। উপজেলা প্রশাসন ও মনিটরিং কমিটির দাবি অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ দেখানো হলেও সরজমিনে এর কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, বারবার কমিটি রদবদল এবং অহেতুক কাজ বন্ধ রাখার ফলে হুমকিতে পড়েছে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের বোরো ফসল।


​শাল্লার উদগলবিল, ভান্ডাবিল ও ছায়ার হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে এখন পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও পড়েনি। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস দাবি করছেন ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের এই তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র মাটি ফেলে বা ঘাস পরিষ্কার করেই কাজের অগ্রগতি দেখানো হচ্ছে।


​তদন্তে দেখা গেছে, ৭১, ১১৬ ও ১১৮ নং পিআইসিতে চলছে নজিরবিহীন নাটকীয়তা। ৭১ নং পিআইসিতে প্রসেনজিৎ ও অসীম দাস ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে কাজ শুরু করলেও রহস্যজনক কারণে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এর পেছনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসের চিঠির দোহাই দেওয়া হলেও সাধারণ কৃষকদের ধারণা, এর নেপথ্যে কাজ করছে বড় কোনো সিন্ডিকেট।


​একই চিত্র ১১৬ নং পিআইসিতেও। সেখানে কাজ শুরু হওয়ার পর একটি প্রভাবশালী চক্র বলপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ওই চক্রের একজনকে সদস্য সচিব করার জন্য খোদ উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটিই প্রস্তাব দিয়েছে, যা পিআইসি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই দ্বন্দ্বে বর্তমানে বাঁধের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।


​অভিযোগ রয়েছে, অনেক পিআইসিতে কাজের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে রাখা হয়েছে। চলতি বছর শাল্লায় শুরুতে ১২৭টি প্রকল্পে ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও রহস্যজনকভাবে তা বেড়ে বর্তমানে ২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যেই প্রভাবশালীরা বারবার কমিটিতে রদবদল করছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।


​১১৮ নং পিআইসিতে গিয়ে কোনো সাইনবোর্ড বা কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পিআইসির সভাপতি সুকুমার বৈষ্ণব ও সচিব বসন্ত কুমার বৈষ্ণব জানান, তারা জমির ম্যাপ ও পর্চা নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও এসও (সেকশন অফিসার) সীমানা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছেন না। তারা আরও অভিযোগ করেন, স্বার্থান্বেষী মহল তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বাধাগ্রস্ত করছে।


​সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। ইউএনও পিয়াস চন্দ্র দাস ১২৭টি পিআইসি অনুমোদনের কথা স্বীকার করে বলেন, "কিছু বিয়োজন রয়েছে যা খুব শীঘ্রই ঠিক করা হবে।" তবে কেন ভরা মৌসুমেও কাজ বন্ধ রেখে কমিটি নিয়ে রদবদল চলছে—সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।


​হাওর পাড়ের কৃষকদের চোখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। তাদের দাবি, আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের আগে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হলে তলিয়ে যাবে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান। প্রভাবশালী ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার যাঁতাকলে পড়ে তাদের একমাত্র ফসল যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য উচ্চতর তদন্ত ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad