তাহিরপুরে আনিসুল-কামরুল এক মঞ্চে: মান-অভিমান ভুলে ঐক্যের ডাক
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে বইছে স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মান-অভিমান ভুলে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক এবং ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার ধুতমা গ্রামে আনিসুল হকের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সভায় এই দুই নেতার পুনর্মিলন ঘটে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসনে আনিসুল হক বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্ত তালিকায় কামরুজ্জামান কামরুলের নাম আসে। এতে আনিসুল হকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছিল। সমর্থকদের সান্ত্বনা দিতে ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে আজ নিজ বাড়িতে এক সভার আয়োজন করেন আনিসুল হক। সভার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। দুই নেতার একত্রে উপস্থিতি মুহূর্তেই সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা জোগায়।
সভায় আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল একে অপরের হাত ধরে দলীয় ঐক্যের ডাক দেন। তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে বড় বিষয় হলো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করা। আমরা এখন থেকে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করব।”
বিজয় নিশ্চিত করতে পারলে তাহিরপুরসহ পুরো সংসদীয় এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। উন্নয়নের ফিরিস্তিতে তারা বলেন অবহেলিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এছাড়াও হাওরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন কামরুজ্জামান কামরুল।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই বিভেদ দূর হওয়ায় এখন সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া সহজ হবে। সভা ঘিরে ধুতমা গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: