‘ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিল চাই’: সুনামগঞ্জে ১০০% সবুজ জ্বালানির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বদলে শতভাগ ‘গ্রিন গ্রিড’ নিশ্চিত করার দাবিতে সুনামগঞ্জে কৃষক সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ায় বিডব্লিউজিইডি, হাউস, ক্লিন এবং প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি ২০২৫) অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাতে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার অভাব রয়েছে। এটি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন) দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-সুনামগঞ্জের সহ-সভাপতি নুরুল হাসান আতাহের-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাউস-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ। তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের কোনো ভূমিকা নেই। জনশুনানি ছাড়াই এটি অনুমোদনের চেষ্টা মূলত পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি মাত্র।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাসস জেলা প্রতিনিধি আমিনুল হক, কৃষক নেতা আবদুল আলী, ফারুক আহমদ, নারী নেত্রী রুশনা আক্তার, রিনা বেগম, আব্দুল হামিদ এবং আশা রানী বর্মন।
যে সব ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে:
- ভুল পরিসংখ্যান: পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ কাগজে ৪৪% দেখানো হলেও বাস্তবে তা মাত্র ১৭%।
- জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা: ২০৫০ সাল পর্যন্ত এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর ৫০% নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- ব্যয়বহুল প্রযুক্তি: হাইড্রোজেন বা কার্বন ক্যাপচারের মতো পরীক্ষামূলক ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা দেশকে নতুন ঋণের জালে ফেলবে।
- পরিবেশগত ঝুঁকি: এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৫০ সালে কার্বন নির্গমন হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e, যা জাতীয় লক্ষ্যের পরিপন্থী।
তিন দফা দাবি
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানান:
১. অবিলম্বে বিতর্কিত ‘ইপিএসএমপি ২০২৫’ বাতিল করা।
২. স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করা।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই জনবিরোধী পরিকল্পনা সংশোধন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: