সেচ সংকটে বিপাকে হাওরের হাজারো কৃষক
সুনামগঞ্জে খরচার খালে ‘মাছ লুটের’ মহোৎসব
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বোরো ফসলের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খরচার হাওরে সেচ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে সেচ পাম্প বসিয়ে খালের পানি শুকিয়ে মাছ লুট করে নেওয়ায় পানির অভাবে ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলি জমি। এতে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খরচার হাওরের উজান এলাকার প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদের প্রধান পানির উৎস ‘খরচার খাল’। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রঙ্গলাল মৎস্যজীবী সমিতি এটি ইজারা নিয়ে আসলেও, এ বছর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জোরপূর্বক খালের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কৃষকদের চাষাবাদের দোহাই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিলেও বাস্তবে তারা রাতের আঁধারে শত শত লোক নিয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে খালের পানি শুকিয়ে মাছ লুট করছে। ইতোমধ্যেই খালের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাছ লুট ও খাল শুকানোর নেপথ্যে রয়েছেন জগাইরগাঁওয়ের আবুল কাশেম, জাহিদ হোসেন, আলী আকবর, মোহাম্মদ হোসেন; কামারটুক গ্রামের ইকবাল, রুয়েল, আজিজ, শাহজাহান এবং বড়ঘাট গ্রামের রিজভি ও জসীম উদ্দিন।
মাঘ মাসের শুরুতেই খালের পানি শুকিয়ে ফেলায় কামারটুক, বড়ঘাট ও জগাইরগাঁও এলাকার শত শত বিঘা জমিতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বছর ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও এবার মৌসুমের শুরুতেই জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, “মাছ লুটেরারা এলাকায় নৈরাজ্য চালাচ্ছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। পানি না পেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।”
অবৈধভাবে খাল শুকানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জেলা প্রশাসন। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, সেচ পাম্প বসিয়ে খাল শুকানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি খরচার হাওরে রাতের আঁধারে কিছু লোক মাছ লুট করছে। আমি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশনা দিয়েছি সরেজমিনে গিয়ে সেচ পাম্প জব্দ করার জন্য। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি, দ্রুত এই মাছ লুট বন্ধ করে খালের অবশিষ্ট পানি সংরক্ষণ করা না হলে এ বছর খরচার হাওরে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: