শাল্লায় সার নিয়ে ডিলার-কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট: দিশেহারা হাওরের কৃষক
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা শাল্লায় বোরো চাষের ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সার ডিলারদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিসের যোগসাজশে ‘রাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে প্রায় ১৪ টন টিএসপি সার উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বোরো ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের হাজারো কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য রাজ এন্টারপ্রাইজের নামে ৪৬.২৫ টন টিএসপি সার বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। সুনামগঞ্জ বিএডিসি গুদাম থেকে গত ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই পুরো সার উত্তোলন করা হয়। তবে শাল্লা কৃষি অফিসের সরেজমিন তদন্তে রাজ এন্টারপ্রাইজের গুদামে রেজিস্ট্রার অনুযায়ী মাত্র ৩২.১৯ টন সারের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ বাকি ১৪.০৬ টন সারের কোনো হদিস নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলার বাবলু রায় এই বিশাল পরিমাণ সার সাধারণ কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, শাল্লার সার বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ডিলাররা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায়ের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে ডিলারদের এসব অনিয়ম বছরের পর বছর ধামাচাপা দিয়ে আসছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. একরামুল হোসেন বলেন, "শাল্লার শতভাগ চাষীই বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। এখন জমিতে সার দেওয়ার মোক্ষম সময়। অথচ ডিলাররা বিএডিসি ও কৃষি বিভাগকে ম্যানেজ করে সার কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"
সুনামগঞ্জ বিএডিসির উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, রাজ এন্টারপ্রাইজ তাদের বরাদ্দকৃত ৪৬.২৫ টন সার ইতিপূর্বেই উত্তোলন করেছে। তিনি জানান, উত্তোলিত সার গুদামে আছে কি না বা সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার দায়িত্ব স্থানীয় কৃষি অফিসের।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিত রায় বলেন, "রাজ এন্টারপ্রাইজের গুদামে ৩২.১৯ টন সারের তথ্য আমাদের কাছে আছে। বাকি সারের কোনো অ্যারাইভাল (পৌঁছানোর প্রমাণ) আমরা পাইনি। ডিলার কর্তৃপক্ষ সঠিক প্রমাণ দিতে না পারলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে সাধারণ কৃষকদের প্রশ্ন, সার উত্তোলনের এতদিন পরও কেন কৃষি অফিস কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? দ্রুত এই সার সংকট নিরসন এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে বোরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিডি
মন্তব্য করুন: