দিরাই–শাল্লা সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুলছে কাজ
সুনামগঞ্জের দিরাই–শাল্লা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নিয়মিত তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রকল্পটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ৬১৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সওজের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সাইদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গাফিলতি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। জমি অধিগ্রহণ–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নথিপত্র অনুযায়ী, দিরাই–শাল্লা সড়কটি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে শাল্লা উপজেলার সরাসরি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে অসম্পূর্ণ অবস্থায় প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে নতুন করে প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৩ সালে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট উপেক্ষা করে হাওড়ের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম ও স্থানীয় বাজার সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হাওড় এলাকায় সড়ক নির্মাণ হলে ফসলি জমি, দেবোত্তর সম্পত্তি ও শ্মশানঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ করলে জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের প্রয়োজন বেশি হবে। কিন্তু হাওড় বরাবর সড়ক নেওয়া হলে এসব ব্যয় কমে যাবে, যা থেকে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এলাকাবাসী সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ওই বছরের মার্চে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনায় অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর আবারও নকশা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। ৮ নম্বর তাড়ল ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সদস্য জানান, তাঁকে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: