সিলেটে স্বামীদের নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলছেন ৪ নারী
নির্বাচনী মাঠ যখন ক্লান্তিহীন দৌড়ঝাঁপে উত্তপ্ত, তখন শুধু প্রার্থীরাই নন—সমান তালে মাঠে নেমেছেন তাঁদের স্ত্রীরাও। প্রতিদিনই উঠোন বৈঠক, ঘরে ঘরে গণসংযোগ আর ভোটারদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ কথোপকথনে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁদের। স্বামীর হয়ে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের দিচ্ছেন আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের স্ত্রীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটাররা।
বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্র করে পরিচালিত এই গণসংযোগ নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই বলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। সিলেট বিভাগে এমন চারজন নারী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের সহধর্মিণী।
সিলেটে প্রতিদিন স্বামীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকা দুই নারী হলেন—সিলেট-৪ আসনে বিএনপি জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সিসিকের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সামা হক চৌধুরী এবং সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমীন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠুর সহধর্মিণী ফৌজিয়া আহমেদও মাঠে সরব।
সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের ভাষ্য, প্রার্থীদের স্ত্রীরা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যাচ্ছে। তাঁদের ডাকে নারী-পুরুষ উভয় ভোটারই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন সভা-সমাবেশে। অনেক জায়গায় তাঁদের উপস্থিতিতে জনসমাগম চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছেন সিমি কিবরিয়া। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁর বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও স্পষ্ট আহ্বান ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে প্রতিদিন সভা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছেও পৌঁছাতে তিনি কীর্তনযজ্ঞ ও মন্দির পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছেন এবং নির্বাচিত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটারদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতোই তাঁর বক্তব্য হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
সিলেট-৪ আসনে সমানতালে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সামা হক চৌধুরী। সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত এই পরিচালক এর আগেও স্বামীর রাজনৈতিক পথচলায় নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে নিয়মিত জনসংযোগ করছেন তিনি। প্রতিটি সভায় তাঁর আবেগঘন বক্তব্য ভোটারদের মনে গভীর ছাপ ফেলছে। সহজে মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভোটারদের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি তুলে ধরছেন সাবেক মেয়র আরিফুল হকের উন্নয়নের অর্জন এবং আশ্বস্ত করছেন—আরিফুল হক নির্বাচিত হলে সিলেট-৪ আসন উন্নয়নের নতুন মহাসড়কে যুক্ত হবে।
সিলেট-১ আসনে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছেন জাকিয়া ইয়াসমীন। এর আগে কখনো সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত না থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বামীর প্রার্থী হওয়ার পর তিনি নগরীর প্রতিটি মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জেলা মহিলা দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট চাইছেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর সরল আহ্বান—
“আপনারা যদি উন্নয়ন দেখতে চান, তাহলে তাঁকেই বেছে নিন। ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন ভদ্র, বিনয়ী ও উন্নয়নমুখী মানুষ। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিন।”
মৌলভীবাজার-১ আসনেও কম আলোচনায় নেই ফৌজিয়া আহমেদ। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন তিনি সভা-সমাবেশ ও উঠোন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের কাছে স্বামীর জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের স্ত্রীরা কেবল সহযাত্রী নন—তাঁরাই হয়ে উঠেছেন ভোটের মাঠের অনুপ্রেরণার শক্তি।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: