সুরঞ্জিতহীন দিরাই-শাল্লা: আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ‘কাড়াকাড়ি’
Led Bottom Ad

সুরঞ্জিতহীন দিরাই-শাল্লা: আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ‘কাড়াকাড়ি’

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৫/০২/২০২৬ ১১:১৬:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে দিরাই-শাল্লা মানেই ছিল প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রভাব। তবে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাল্টে গেছে দীর্ঘ কয়েক দশকের চেনা সমীকরণ। এবারের নির্বাচনে সুরঞ্জিত পরিবারের কেউ প্রার্থী নেই, মাঠে নেই আওয়ামী লীগের চিরচেনা ‘নৌকা’ প্রতীকও। ফলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিশাল ভোটব্যাংক ও আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের নিজের পক্ষে টানতে এখন মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা।

​মঙ্গলবার বিকেলে দিরাই উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের শাসখাই বাজারে নির্বাচনী সমাবেশ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এর ঠিক পরদিন বুধবার একই স্থানে জনসভা করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। উভয় প্রার্থীর সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

১৯৭০ সালে ন্যাপের হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাই-শাল্লাকে আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্তা তিনবার এই আসন থেকে জয়ী হন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে থাকায় এবং জয়া সেনগুপ্তা ভোট বর্জনের ডাক দেওয়ায় সাধারণ ভোটাররা এখন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এবং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আওয়ামী ঘরানার ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর সমর্থক সচীপদ দাস বলেন, “সুরঞ্জিত বাবু বা তাঁর স্ত্রীর কারণে অনেকে আগে নাছির চৌধুরীকে ভোট দিতে পারেননি, এবার তাঁরা সেই সুযোগ পেয়েছেন।”

​অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির এলাকায় তাঁর আইনি সহায়তা ও মানবিক কর্মকাণ্ড দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর সমর্থক হিমেল দাসের মতে, “নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজ করায় শিশির মনিরের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।”

এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা ভোট বর্জনের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। প্রার্থীরা তাঁর স্বামীর নাম ব্যবহার করায় ভালো লাগা প্রকাশ করলেও তিনি ভোটারদের ভোট দিতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দিরাই-শাল্লায় সিপিবির নিরঞ্জন দাস খোকনও (কাস্তে প্রতীক) লড়াইয়ে আছেন, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ছত্তার মিয়ার মতে, আওয়ামী ঘরানার যে বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে, সেটি যে প্রার্থীর বাক্সে পড়বে, তিনিই শেষ হাসি হাসবেন।

​সুরঞ্জিতের শূন্যতায় দিরাই-শাল্লার এই বিশাল ‘মাইনোরিটি’ ও ‘আওয়ামী ভোট’ শেষ পর্যন্ত কার পালে হাওয়া দেয়—তা জানতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad