তাহিরপুরে অর্থ সংকটে হাওররক্ষা বাঁধের কাজ স্থবির: ঝুঁকিতে বোরো ফসল
Led Bottom Ad

তাহিরপুরে অর্থ সংকটে হাওররক্ষা বাঁধের কাজ স্থবির: ঝুঁকিতে বোরো ফসল

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৮/০২/২০২৬ ১০:৩৬:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অর্থ সংকটের কারণে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের দেড় মাস পার হলেও দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দ না পাওয়ায় উপজেলার ৮৮টি প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ৭০টি পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে আগাম বন্যায় শস্যভাণ্ডার খ্যাত শনি, মাতিয়ান ও মহালিয়াসহ ৮টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরে বাঁধের কাজ শুরুর আগেই পিআইসিগুলোকে ২৫ শতাংশ অর্থ অগ্রিম দেওয়ার কথা। কিন্তু পিআইসি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাউবো তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা। অথচ মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে স¤পন্ন করেছেন কৃষকরা। এখন পকেটের টাকা এবং ধারদেনা করে কাজ চালানোর পর সামর্থ্য হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন।

মাতিয়ান হাওরের ৭১নং পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা পেয়েছি। শ্রমিক আর ভেকু (এস্কেভেটর) ভাড়ার টাকা দিতে পারছি না। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। টাকা না পেলে গাড়ি চালাবো কীভাবে?”

৮৫নং পিআইসির সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, “হাওলাত করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। বারবার ইউএনও সাহেবকে বলার পরেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় কাজ শেষ করা অসম্ভব।”

হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান, প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার নিয়ম। কিন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পার হলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় কাজে ধীরগতি নেমে এসেছে। সময়মতো মজবুত বাঁধ নির্মাণ না হলে চৈত্র মাসের পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যায় তাঁদের সারা বছরের একমাত্র সম্বল বোরো ফসল হানির আশঙ্কা রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. মনির হোসেন বলেন, “শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ স¤পন্ন করতে। তবে অর্থ সংকটের কারণে কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা যাচ্ছে না।”

দ্রুত অর্থ ছাড় করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পুনরায় সচল করার জন্য জেলা প্রশাসক ও পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাওরবাসী।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad