নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
হবিগঞ্জে নারী ভোটাররাই জয়ের চাবিকাঠি
ভোটের মাঠ চাঙ্গা হতে শুরু করেছে হবিগঞ্জে। এবারের নির্বাচনে জেলার মোট ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৬১৭ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৮৫৩ জন, যা পুরুষ ভোটারের প্রায় সমতুল্য। নারী ভোটারদের এই বিশাল অংশের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা বিশেষভাবে মনোযোগী হয়েছেন, কারণ এই ভোটব্যাংকই নির্ধারণ করে দেবে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ।
জেলাটির অর্থনীতিতে চা শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম, যেখানে শ্রমশক্তির ৬০-৭০ ভাগই নারী। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ এখনো অপ্রতুল। দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক বাসন্তী বাকতি বলেন, “আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যারা আমাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বাস্তবভিত্তিক কাজ করবেন।” অন্যদিকে, অলিপুরের প্রাণ আরএফএল ফ্যাক্টরির নারী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ এবং নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া সরকারকেই ভোট দেবেন।
হবিগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগে জড়িত নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তা নাজমা আক্তার বলেন, “নতুন সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া—নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো হোক, যাতে তারা অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।”
নির্বাচন নিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি তরুণ নারী ভোটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে। অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নারীদের প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “আমরা নিরাপদ যাতায়াত এবং সমাজে নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: