বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব: সংরক্ষণের অভাবে দুশ্চিন্তায় চাষীরা
পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সবজি চাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। গত এক দশকে এই অঞ্চলের কৃষি চিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের এক ফসলি জমিতে এখন সারা বছর সবুজের সমারোহ। আমন ধানের পরিবর্তে বানিয়াচং সদরের ৪টি ইউনিয়নসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেই এখন হরেক রকমের সবজি চাষ হচ্ছে। তবে এই কৃষি বিপ্লবের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাগারের (কোল্ড স্টোরেজ) অভাব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে এই অঞ্চলে অগ্রহায়ণে আমন আর বৈশাখে বোরো ধানই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে সবজি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এতে শুধু কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, সৃষ্টি হচ্ছে হাজারও বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি রবি মৌসুমে বানিয়াচংয়ে প্রায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে।
সবজির বাম্পার ফলন হলেও সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। উৎপাদিত সবজি পচনশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় বানিয়াচংয়ে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সচিবের সফরের পর একটি হিমাগার স্থাপনের লিখিত প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
এদিকে কৃষি বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে না পারার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের চরম উদাসীনতা ও অনিয়মকে দায়ী করছেন কৃষকরা। জিয়া উদ্দিন ও সোহেল মিয়াসহ একাধিক কৃষকের অভিযোগ, সরকারি সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা সাধারণ কৃষকরা পায় না। মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও ফসলের রোগ-বালাইয়ের সময় পাশে পাওয়া যায় না।
সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক বিগত ৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। অকৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া এবং সরকারি হারভেস্টার মেশিন ও কৃষি সরঞ্জাম দলীয় প্রভাবশালীদের পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ধান কাটার মেশিন এক রাজনৈতিক নেতাকে পাইয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে সরিয়ে একজন কৃষকবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, "মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" দীর্ঘ সময় একই স্টেশনে থাকা এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অনেক সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে যান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: