ফসল রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠনে অনিয়ম
সুনামগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্প বিক্রির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে চরম অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি প্রকল্প অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উদগল হাওরের ৪৫ নম্বর পিআইসি প্রকল্পটি প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে অকৃষক ফখরুল মিয়া ও শিবলী আহমেদের কাছে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কৃষক মাহমুদুল হাসানের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলায় তাকে প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়।
প্রকল্পের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান জানান, “আমাকে বাদ দিয়ে টাকা নিয়ে প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।”
এছাড়া কালিয়ারকোটা হাওরের ৯৮ নম্বর প্রকল্পটি নীতিমালা ভেঙে শান্ত মিয়ার কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভান্ডাবিল হাওরের ২৫ নম্বর এবং ছায়ার হাওরের ৭০ ও ৭১ নম্বর প্রকল্পসহ আরও বেশ কয়েকটি পিআইসিতে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ করুক। আমি অপরাধী হলে অপরাধ স্বীকার করব।” তিনি দাবি করেন, পিআইসি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকায় দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং এর জের ধরে মারামারিও হয়েছে। পাশাপাশি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওবাইদুল হকের বিরুদ্ধেও অনিয়মের পাল্টা অভিযোগ তোলেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করা হবে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনিয়মের মাধ্যমে গঠিত কমিটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা ফসল রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে না বলে আশঙ্কা তাদের।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: