ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ মাছচাষীরা
দোয়ারাবাজারে ১৪০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা তেলাপিয়া মাছের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশায় দিন পার করছেন স্থানীয় খামারিরা। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ পাইকারি দরে মাত্র ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ চাষীদের।
উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুর, গিরিশনগর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুর এবং সদর ইউনিয়নের টেবলাই ও লামাসানিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে তেলাপিয়া মাছের চাষ হয়। স্থানীয় খামারিরা জানান, পুকুর লিজ নেওয়া, পোনা ক্রয়, খাদ্য, পরিচর্যা ও বিদ্যুৎ বিলসহ মাছ চাষে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সবমিলিয়ে কেজি প্রতি মাছের উৎপাদনে খরচ দাড়ায় ১৬৭-৭০ টাকায়। কিন্তু বাজারে পাইকারি পর্যায়ে ১৪০ টাকা কেজি দরে মাছ বিক্রি করতে হওয়ায় চাষীদের বড় অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
আলীপুর গ্রামের মাছ চাষী আব্দুর রহিম বলেন, “এ বছর খরচ হয়েছে অনেক, কিন্তু মাছ বিক্রির সময় দাম পাচ্ছি না। ১৪০ টাকা পাইকারি দরে মাছ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে মাছ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে।”
একই গ্রামের মাছ চাষী হাবিবুল কবির শুভ বলেন, “নায্য মূল্য না পেয়েও বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। পুকুরে মাছ স্টক রাখলে খাবার কিনে খাওয়াতে হবে।”
টেংরাটিলা গ্রামের চাষী শের মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, “খাদ্যের দাম অনেক বেশি। আমরা যে দরে মাছ বিক্রি করছি, তাতে আমাদের লোকসান ছাড়া উপায় নেই।”
বৈঠাখাই গ্রামের মাছ বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, “বাজারে এখন বিলের দেশী মাছের চাহিদা থাকায় চাষের তেলাপিয়া মাছের চাহিদা কম। তাছাড়া সব বাজারেই তেলাপিয়া মাছের সরবরাহ এখন বেশি। সারাদিন বসে থেকেও আগের মতো তেলাপিয়া মাছ বেচাকেনা হচ্ছেনা।”
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ হানিফ উদ্দিন জানান, “প্রান্তিক মাছ চাষীরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার জন্য মার্কেটিং সিস্টেম অনেকাংশে দায়ী। বিশেষ করে অধিকাংশ খামারিরা টার্গেট করে মাছ চাষ করে। ফলে একই সময়ে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমে যায়। এজন্য মার্কেটিং সিস্টেমটাকে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া খাবারের দাম, ঔষুধের দামসহ মাছের চাষের আনুষাঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা আশানুরূপ লাভবান হতে পারছেন না।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: