লাল আশ্রয়ে প্রশান্তি খুঁজছেন পর্যটকরা
শিমুলের রক্তিম আভায় মুখর যাদুকাটা তীর
বসন্তের আগমনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগান এখন রক্তিম আভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। যাদুকাটা নদী আর মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই বাগানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটছে। বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ২০০০ সালে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে ৩ হাজার শিমুল গাছ লাগিয়ে এই বাগানটি গড়ে তোলেন, যা বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুল আর পাখির কিচিরমিচিরে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা পাহাড়, নদী ও শিমুলের এই ত্রিবেণী সংগম দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন। বাগানটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে; আশপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান ও খাবারের স্টল।
তবে বাগানের এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের প্রধান অভিযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াতের নাজুক সড়ক পথ।
দর্শনার্থীরা জানান, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে দীর্ঘ সময় কষ্টকর যাত্রা করতে হয়, যা পর্যটনের অমিত সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও আধুনিক পর্যটকবান্ধব সুবিধার অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন অনেকে।
বাগানের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক রাকাব উদ্দিন জানান, এটি তাঁর বাবার স্বপ্নের বাগান এবং নিজস্ব উদ্যোগে কিছু উন্নয়ন করা হলেও সরকারি সহযোগিতা পেলে একে আরও আধুনিক করা সম্ভব। নতুন সরকার দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: