টাঙ্গুয়ার হাওরে রাতের অন্ধকারে ‘শক সন্ত্রাস’: নির্বিচারে মাছ নিধন
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে গভীর রাতে চলছে ‘শক সন্ত্রাস’। ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মেশিন পানিতে ডুবিয়ে একের পর এক দেওয়া হচ্ছে বৈদ্যুতিক শক। মুহূর্তেই অজ্ঞান হয়ে ভেসে উঠছে ছোট-বড় অসংখ্য মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। পরদিন ভোরে হাওরের পানিতে ভাসতে দেখা যাচ্ছে মৃত মাছ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে নৌকায় করে হাওরের বিভিন্ন গভীর জলাশয়ে ঢুকে পড়ে। আল্ট্রাসনিক ইলেকট্রিক ফিশিং ইনভার্টার মেশিন দিয়ে টানা এক থেকে দেড় মিনিট বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ ফুট এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যুৎ। অল্প সময়েই পানির নিচের প্রাণভুবন পরিণত হয় মৃত্যুকূপে।
পরিবেশবিদেরা বলছেন, এটি শুধু অবৈধ নয়—হাওরের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এভাবে নির্বিচারে শক প্রয়োগে মাছের ডিম ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। জলজ কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণী মারা যাওয়ায় ভেঙে পড়ছে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল। দীর্ঘমেয়াদে এটি মৎস্যসম্পদে ভয়াবহ সংকট ডেকে আনবে।
হাওরপাড়ের বাসিন্দা নজির হোসেন বলেন, ‘রাত হলেই তারা নামে। বড় মাছের সঙ্গে পোনা-ডিম সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে কয়েক বছর পর মাছের নামগন্ধও থাকবে না।’
সচেতন মহলের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিতে কীভাবে এমন প্রকাশ্য আইনভঙ্গ চলতে পারে? নিয়মিত টহল, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং শক মেশিন জব্দের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলেই কি চলবে? দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মিঠাপানির জলাভূমি যদি রাতের অন্ধকারে এভাবেই লুণ্ঠিত হতে থাকে, তবে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা আদৌ সম্ভব হবে কি?
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: