শাল্লায় হাওররক্ষা বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’
Led Bottom Ad

অক্ষত বাঁধে কোটি টাকার বরাদ্দ

শাল্লায় হাওররক্ষা বাঁধে ‘ঘুষের খেলা’

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৪/০২/২০২৬ ১৩:১৭:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ (পিআইসি) পেতে দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই এমন মজবুত ও অক্ষত বাঁধেও ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বরাম হাওরের ৪১ নম্বর পিআইসিতে মাত্র ১৯০ মিটার বাঁধের জন্য ৩৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই বাঁধটি আগে থেকেই যথেষ্ট টেকসই ছিল এবং নামমাত্র সংস্কারেই কাজ চলত। অথচ সেখানে বিশাল অংকের প্রাক্কলন ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের পথ তৈরি করা হয়েছে। ৪১ নম্বর পিআইসি কমিটির সভাপতি নান্টু সরকার ও তাঁর ভাই পরিতোষ তালুকদার স্বীকার করেছেন যে, এই প্রকল্প পেতে তারা একটি রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে বড় অংকের টাকা লেনদেন করেছেন। এমনকি একই কমিটির সদস্য সচিব পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে পিআইসি ‘বেচাকেনার’ বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।

এদিকে ৩৯, ১২৪, ৪০ ও ৪১ নম্বর পিআইসি মিলিয়ে ১ হাজার মিটার কাজ করার কথা থাকলেও সাইনবোর্ডে ১৬০০ মিটার দেখানো হয়েছে। এই চারটি প্রকল্পে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার সিংহভাগই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম অন্তত ৩০টি পিআইসি বিক্রির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগী এক সদস্যের ভিডিও জবানবন্দিতেও দেড় লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার সত্যতা মিলেছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা বলছেন, পাউবো’র শাখা কর্মকর্তা (এসও) ওবায়দুল হকের প্রশ্রয়েই এসব ‘ফাও’ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ওবায়দুল হক দাবি করেছেন, বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় গর্ত ভরাটের জন্য বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি কোনো অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, "বাইরে কেউ টাকা লেনদেন করলে সেটি আমার জানা নেই, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" হাওরবাসীর আশঙ্কা, কাজের নামে এই হরিলুট বন্ধ না হলে এবং সঠিক তদারকি না হলে বর্ষায় ফসলহানির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad