দিরাইয়ে সিন্ডিকেটের থাবায় ফসলি জমি: প্রশাসনের ‘অন্ধ’ ভূমিকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) লুটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিনরাত হাওরের মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ভরারগাঁও পশ্চিম পাশের হাওর, ‘কছমার হাওর’ চকবাজার এবং ঘাগটিয়া এলাকার লামারহাটি সংলগ্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় স্কেভেটর বসিয়ে আবাদি জমি খুঁড়ে মাটি লুট করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে এই চক্রের নেতৃত্বে দিরাই পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত, ইউপি সদস্য আসান মিয়া, নূর মিয়াসহ মোস্তফা, জলিল ও মামুনের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া কছমার হাওরে রেশম মিয়া এবং ঘাগটিয়া এলাকায় শুজাউর মিয়ার নেতৃত্বে পৃথক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাধা দিলে এই চক্রটি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ট্রাক চালক মোহন আলীর ভাষ্যমতে, প্রশাসনের সামনে দিয়েই এসব মাটিবাহী ট্রাক চললেও কেউ বাধা দিচ্ছে না, যা সিন্ডিকেটের সাথে প্রশাসনের যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তবে এই প্রকাশ্য অনিয়ম নিয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জীব সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “আপনি জেলা শহর থেকে এসে মাটি কাটা দেখতে পেলেন, আমি তো দেখি না।”
ইউএনও’র এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ‘রহস্যজনক’ ভূমিকায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; তারা অবিলম্বে এই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট নির্মূলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: