বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের নদ-নদী: পানির বদলে বুকে এখন বোরো ধানের চাষ
সুনামগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের প্রমত্তা খরস্রোতা নদ-নদীগুলো। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, এক সময়ের উত্তাল পুরাতন সুরমা নদীর শান্তিগঞ্জের জামলাবাজ গ্রামের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এখন পানির বদলে দুলছে বোরো ধানের সবুজ চারা। উজানের পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা পলিতে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুধু পুরাতন সুরমাই নয়, কালনী, মহাসিং, ডাউকী ও সোমেশ্বরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোও এখন মৃতপ্রায়। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর বুকে বিশাল চর জেগে ওঠায় স্থানীয় কৃষকরা সেখানে এখন ধান চাষ করছেন। এলাকাবাসীর মতে, যেখানে একসময় বড় বড় লঞ্চ ও মালবাহী নৌকা চলত, এখন সেখানে মানুষ পায়ে হেঁটে পার হচ্ছে। নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় বর্ষাকালে যেমন অকাল বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে সেচের তীব্র সংকট। পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আলী আহমদ এই করুণ দশার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নিয়মিত খননের অভাবকে দায়ী করেছেন।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক; তিনি জানান যে ১৯টি নদী খননের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি নদীর খনন প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াও জানিয়েছেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নদী ও খাল খনন বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন হাওরবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: