সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পাউবো’র চরম অবহেলা
Led Bottom Ad

২০১৭ সালের মহাবিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পাউবো’র চরম অবহেলা

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ

০১/০৩/২০২৬ ১৪:০০:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ।  ৭ একর জমিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলানো কৃপেশ দাসের মতো লাখো কৃষকের চোখে এখন সোনালী স্বপ্নের বদলে কেবলই দুঃস্বপ্নের কালো মেঘ। কারণ, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অর্ধেকের বেশি কাজ এখনো বাকি। প্রশাসনের ঢিমেতালে চলা কাজ আর দুর্নীতির অভিযোগে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার প্রধান বোরো ফসল।

​জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক এলাকায় এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি, কোথাও কোথাও কেবল ঘাস লাগানোর নামে বরাদ্দ লোপাটের পাঁয়তারা চলছে।

২০১৭ সালের ভয়াবহ মহাবিপর্যয়ের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি হাওরবাসী। সেবার বাঁধ ভেঙে শতভাগ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। খরচার হাওরপারের কৃষক আবুল কাসেম (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "২০১৭ সালে বাঁধের দুর্নীতি আর অবহেলার কারণে আমরা না খেয়ে মরেছিলাম। গরু-ছাগলও মরেছে ঘাসের অভাবে। ২০২৬ সালেও যদি সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে আমরা প্রশাসনের দুয়ারে গিয়ে হাহাকার করা ছাড়া আর পথ পাব না।"

​হাওর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কাজের যে তথ্য দিচ্ছে, তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।​ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিজন সেন রায় বলেন, "গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনিয়ম ও গাফিলতি চরমে। শাল্লাসহ বেশ কিছু উপজেলায় কাজ শুরুই হয়নি। প্রশাসন কেবল কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখাচ্ছে।"​

হাওর ও নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন অভিযোগ করেন, "গত বছরের অক্ষত বাঁধগুলোতে নতুন বরাদ্দ দেখিয়ে 'হরিলুট' চলছে। প্রথম দফার আগাম বন্যাতেই এই নড়বড়ে বাঁধ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"

কাজের ধীরগতির কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার নির্বাচনের অজুহাত তুলে ধরে ১৫ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকৃতি কি সেই ১৫ দিন অপেক্ষা করবে? যেখানে মার্চ মাসেই আগাম বন্যার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে এই বর্ধিত সময় মূলত ব্যর্থতা ঢাকার কৌশল মাত্র।

​সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মনিটরিংয়ের আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব নগণ্য। বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাঁধের কাজের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা এবং গাফিলতিতে জড়িত পাউবো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায়, ১৪৫ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দের অপচয় তো হবেই, সেই সাথে সুনামগঞ্জের অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad