দিরাই-শাল্লা মহাসড়ক প্রকল্প: দুর্গম যাত্রায় অপার সম্ভাবনা, তবে অনিয়ম ও ধীরগতিতে ক্ষোভ
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বঞ্চনা দূর করতে নির্মাণাধীন দিরাই-শাল্লা সড়ক প্রকল্পকে ঘিরে একদিকে যেমন নতুন স্বপ্নের সূচনা হয়েছে, অন্যদিকে নকশা পরিবর্তন ও ধীরগতির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ। মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশ হিসেবে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি শেষ হলে রাজধানী ঢাকার সাথে সুনামগঞ্জের দূরত্ব কয়েক ঘণ্টা কমে আসবে এবং হাওরাঞ্চলে কৃষি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের কাজ ৫৪ শতাংশের বেশি শেষ হলেও টেলিফোন বাজার অংশে নকশা বহির্ভূতভাবে হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা, যা তাঁদের মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। এছাড়া রেকর্ডীয় জায়গা অধিগ্রহণ না করেই কাজ শুরু করা এবং ভূমি মালিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় তাড়ল ইউনিয়নের তলবাউসীসহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রকল্পের ১৭১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৫৪ কোটি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হলেও ইটের খোয়া ও নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন 'হাওর বাঁচাও আন্দোলন'-এর নেতারা।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানিয়েছেন, কাজ নকশা অনুযায়ীই হচ্ছে এবং দুর্গম হাওর এলাকায় বছরে মাত্র ৪-৫ মাস কাজের সুযোগ পাওয়ায় গতি কিছুটা কম। ২০২২ সালে নতুন করে অনুমোদিত ৬২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতি ও জটিলতার কারণে সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: