পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
সুনামগঞ্জে চলন্ত সিএনজিতে কিশোরী গণধর্ষণ: ৩ পাষণ্ড গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে চলন্ত সিএনজিতে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহেল, এরশাদ ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপরাধে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের 'ভৈরব' নামের এক যুবকের সাথে বিশ্বনাথের ওই কিশোরীর পরিচয় হয় এবং প্রেমের টানে সে সুনামগঞ্জ আসে; তবে ভৈরব সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে বন্ধু সোহেলের জিম্মায় রেখে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সোহেল গত ১৫-১৬ দিন মেয়েটিকে আটকে রেখে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গত ১ মার্চ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে সিএনজি চালক এরশাদ ও মাসুম বিশ্বম্ভরপুর রোডের পলাশ নামক নির্জন এলাকায় নিয়ে চলন্ত গাড়িতে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএম-এর নির্দেশে এসআই জহিরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম হাসপাতালে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং ৪ মার্চ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে আইনের আওতায় আনে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাতক চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে কিশোরীটির ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং জেলা সমাজসেবা অফিসারের উপস্থিতিতে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ওসি রতন শেখ জানিয়েছেন, নারীর নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে মামলার তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: