ভালো ফলনের আশা
সুনামগঞ্জের হাওরে স্বস্তির বৃষ্টিতে খুশি কৃষক
দীর্ঘ খরায় যখন সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার বোরো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, ঠিক তখনই রোববার গভীর রাতের একপশলা বৃষ্টি কৃষকের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তীব্র তাপদাহ ও পানিসংকটে যখন ফসলের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল এবং ধানগাছ লালচে বর্ণ ধারণ করছিল, তখন এই বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
জেলার প্রায় ২০০টি হাওরে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ খরার কারণে উঁচু জমিতে সেচ সংকট দেখা দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফসল রক্ষায় হাওর এলাকার কৃষকরা গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়ারও আয়োজন করেছিলেন।
দিরাই উপজেলার বরাম হাওরপাড়ের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই বৃষ্টি বোরো ফলনের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। বৃষ্টির পর হাওরের ফসলের চেহারা পাল্টে যাবে।”
তাহিরপুরের শনির হাওরের কৃষক সেলিম আখঞ্জীও একই স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, খরায় জমি জ্বলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত হিসেবেই এসেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বৃষ্টি ধানের মড়ক ভাব দূর করবে এবং বিশেষ করে যেসব উঁচু জমিতে সেচের সুবিধা নেই, সেসব জমির জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, “এতে ধানে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং ধানের গুণগত মান ভালো হবে। বৃষ্টির পরবর্তী রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বোরো আবাদের জন্য বেশ ইতিবাচক।”
কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো এই বৃষ্টি হওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: