পুলিশ ফাঁড়ির পথই এখন ‘ছিনতাই ফাড়া’: শিবেরবাজারে আতঙ্কে পথচারীরা
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানার আওতাধীন শিবেরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তাটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘ছিনতাই ফাড়া’ বা বিপদের ক্ষেত্র হিসেবে। ফাঁড়ির এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ নজরদারি না থাকায় এই পথটি এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিবেরবাজার এলাকায় এক ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাটি এই এলাকার ভয়াবহতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ওইদিন ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সহকারী বিনিয়োগ কর্মকর্তা মিঠুন দাস গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ফেরার সময় হেলমেট পরিহিত ৫-৬ জন দুর্বৃত্তের আক্রমণের শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পিঠে ও কাঁধে ছুরিকাঘাত করে। টানা সাত দিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার ক্ষেত্রেও তাকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, গত এক মাসে ওই পথে অন্তত সাতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তেমুখী এলাকার এক বাসিন্দার মতে, ছিনতাইয়ের পর আইনি জটিলতা ও হয়রানির ভয়ে অনেক ভুক্তভোগীই এখন আর থানায় অভিযোগ করেন না। এলাকাবাসীর দাবি, অতীতে চোরাই চিনির চালান ধরার পর এই পথে নজরদারি বাড়লেও পরবর্তীতে তা শিথিল হয়ে যায়। এছাড়া সালুটিকরের কাছাকাছি হওয়ায় ছিনতাইকারীরা খুব সহজেই কোম্পানীগঞ্জ বা গোয়াইনঘাটের দিকে পালিয়ে যেতে পারছে।
এই বিষয়ে শিবেরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টিকে ‘ছিনতাই ফাড়া’ বলতে নারাজ। এমনকি জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ শামছুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর সাড়া দেননি।
তবে এসএমপির সদর দপ্তর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। সাম্প্রতিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গত ৩২ ঘণ্টায় পাঁচ ছিনতাইকারীসহ মোট ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব ছিনতাইকারী স্থানীয় নয় এবং তারা সিলেটের বাইরের। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: