২৩ লাখ টাকার কাজ এখন গলার কাঁটা
শাল্লায় ছায়ার হাওর রক্ষা বাঁধে লুটের মহোৎসব
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের ১৪ নং পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) নিয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পে কাজের কোনো নিয়মনীতি না মেনে কোটি টাকার বোরো ফসলকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। ডুমরা আতাউরের বাড়ি থেকে মন্নানপুর পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও সরেজমিনে কাজের কোনো গুণগত মান পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি সুজিত চন্দ্র দাস ও সেক্রেটারি হিসেবে এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক (সমন্বয়ক) তাপস দাস দায়িত্ব পালন করলেও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তথ্য গোপন রাখতেই এমন লুকোচুরি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরনো সরু সড়কে নামমাত্র মাটি ফেলে বাঁধটিকে আরও শ্রীহীন করা হয়েছে; যথাযথভাবে দুর্মুজ না করা এবং দুর্বাঘাস না লাগানোর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো বাঁধ কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত সোমবার সোমেশ্বরী মেলায় আসা হাজার হাজার মানুষ এই পথে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু জানান, সাধারণ মানুষ এই অনিয়ম নিয়ে পরিষদকে দোষারোপ করলেও তারা এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত নন। বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) অবহিত করেছেন।
তবে প্রকল্পের সেক্রেটারি তাপস দাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঁধ মনিটরিং কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস প্রকল্পের বরাদ্দ বা অনিয়ম সম্পর্কে অবগত নন বলে জানালেও জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, যথাযথভাবে দুর্মুজ ও ঘাস না লাগানোয় এই দুর্বল বাঁধটি পাহাড়ি ঢল সহ্য করতে পারবে না, ফলে ছায়ার হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান অকালে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন লুটপাটের ঘটনায় হাওরপারের কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: