দোয়ারাবাজারে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক আটকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ছদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।
জানা গেছে, সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর সাইডিংঘাটের স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি ইটবোঝাই গাড়ি শরীফপুর থেকে বোগলাবাজার যাওয়ার পথে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে আটকে দেওয়া হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করে এবং ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে দাবি করে চালককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালান ওই শ্রমিক লীগ নেতা।
কালা মিয়া এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মাসুদ রানা সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, ছদরুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন এবং ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত পুনরায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিদিন ওই সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি চলাচল করলেও চাঁদা না দেওয়ায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের গাড়িটি আটকানো হয়েছে।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে ছদরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ইউএনও’র নির্দেশে অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধ করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ জানান, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার কোনো অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রশাসন নিজেই তা করবে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: