‘দিনে-রাতে মশা-মাছি, এই নিয়ে সিলেট আছি’
‘দিনে-রাতে মশা-মাছি, এই নিয়ে সিলেট আছি’-কথাটি নগরীর বিক্ষুব্ধ এক নাগরিকের। এমন খেদোক্তি-মশার অত্যাচারে অতিষ্ট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেনের। তিনি বলেন, নগরের অলিগলি, বাড়ি, অফিস—কোথাওই আর নিরাপদ নয়। দিনের আলোতে কিংবা রাতে ঘুমের সময়, সবাইকে বিরক্ত করছে উড়ন্ত এই ছোট দানব।
নগরবাসীর অভিযোগ, মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টার স্বস্তি মিললেও, আবার নতুন করে মশার কামড় শুরু হয়। মানুষ এখন শুধু অস্বস্তি নয়, রোগের আশঙ্কার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে একযোগে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জনবল স্বল্পতার পাশাপাশি বন্ধ বা নিস্প্রভ বাড়ি-মালিকানার কারণে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সব জায়গায় একযোগে কাজ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা চেষ্টা করছি প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে।”
নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, মশক নিধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন র্যালি ও কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন তিনি।
নগরবাসী বলছেন, এখন শুধু নিজ বাড়ি নয়, পুরো নগর—ছড়া, খাল, পুকুর—সবকিছু পরিষ্কার করতে হবে। একাধিক বছরের অচল অবস্থা দূর না করলে, প্রতিদিনের জীবন ক্রমশই অসহনীয় হয়ে উঠবে। এই শহরের মানুষ আশা করছে, সিসিক দ্রুত কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেবে, যেন স্বস্তি ফিরে আসে এবং দিশেহারা জীবন পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আসে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: