পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
Led Bottom Ad

বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

প্রথম ডেস্ক

২৪/০৫/২০২৬ ১৮:৪৮:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাংলাদেশ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে অথচ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অভিযাত্রায় শামিল হওয়ারও জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

রবিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্মিত ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব যুগান্তকারী কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধ ও সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণে জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে স্থাপিত এই বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন ও দূরদর্শী কণ্ঠে বলেন, “আজ আমরা এমন একটি মহতী উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করছি যা শুধু সাধারণ একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মামুলি ব্যবস্থা নয় বরং এটি আগামী দিনে বাংলাদেশের টেকসই ও নিরাপদ ভবিষ্যতের এক অনন্য প্রতীক; কারণ জাতীয় সংসদ ভবনে এই এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সফল উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বদরবারে ও দেশের মানুষের কাছে একটা বার্তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দিতে পারবো যে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে অবিচলভাবে এগিয়ে চলেছে।”

বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নান্দনিক নকশায় নির্মিত আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনকে দেশের গণতন্ত্রের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “আজ সেই গৌরবময় ঐতিহাসিক ভবনের ছাদে আধুনিক সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা পুরো জাতিকে এটা প্রমাণ করে দেখানোর চেষ্টা করছি যে, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব কেবল কাগুজে নীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা বাস্তব মাঠপর্যায়ের কর্মকা-েও সমানভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।”

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে পূর্ণাঙ্গ স্বনির্ভরতা অর্জন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে; আমাদের জাতীয় অর্থনীতি ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, দেশজুড়ে ব্যাপক শিল্পায়ন বাড়ছে এবং স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের চাহিদাও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে; কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বৈশ্বিক অভিঘাতে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত ও অসময়ের অতিবর্ষণ, ঘন ঘন প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র নদী ভাঙন আমাদের দেশের মানুষের প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এ কারণেই আধুনিক টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর আমাদের জন্য শুধু সাধারণ পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বা বিলাসিতা নয় বরং এটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতি এবং সার্বিক নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর সৌরশক্তিই হচ্ছে সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল ও কার্যকারী দিক।”

দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তির বিশাল সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে অন্তত সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টার বিপুল সৌরশক্তি প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া যায়; আমাদের দেশের অসংখ্য ভবনের ছাদ, বিস্তীর্ণ শিল্প এলাকা, বিশাল খোলা জমি এবং বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে নবায়নযোগ্য সৌর জ্বালানির এক বিশাল অবারিত সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে যা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমি মনেপ্রাণে ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদ ভবনের এই যুগান্তকারী পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ দেশের সকল সরকারি এবং বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে; দেশের প্রতিটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই মহান জাতীয় অভিযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই বিশ্বদরবারে টেকসই উন্নয়নের এক রোল মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে।”

জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মূল মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। এছাড়া এই বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad