ঈদের আগে তলব না পেয়ে মিরতিংগা চা-বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে। ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি থাকার কথা থাকলেও মৌলভীবাজার জেলার মিরতিংগা চা-বাগানের শতাধিক শ্রমিক পরিবারে এখন নেমে এসেছে হতাশা আর অনিশ্চয়তা। সাপ্তাহিক তলব না পেয়ে ক্ষোভ আর অভাবের বেদনায় সোমবার (২৬ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন বাগানের চা-শ্রমিকরা।
পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী সকাল থেকেই বাগানের চা-ফ্যাক্টরির কার্যক্রম বন্ধ রেখে শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক তলব পরিশোধ করা হলেও এ সপ্তাহে কৃষি ব্যাংকের ঋণের অজুহাত দেখিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো তলব দেয়নি।
এ ঘটনায় বাগানের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি মুসলিম চা-শ্রমিক পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারই দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঈদের আগে হঠাৎ তলব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
শ্রমিকরা জানান, সামান্য মজুরিতেই তাদের সংসার চলে। ঈদ সামনে রেখে সন্তানদের জন্য নতুন কাপড়, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হাতে টাকা না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়ছে। অনেকের ঘরে বাজার নেই, কেউ কেউ ধার-দেনা করে দিন পার করছেন।
এক নারী শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সারাবছর কষ্ট করি, ঈদের সময় বাচ্চাদের মুখে একটু হাসি ফোটাবো ভেবেছিলাম। এখন ঘরে চাল কেনার টাকাও নেই।”
বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে কর্মবিরতিতে নেতৃত্ব দেন মনু-ধলই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরি, চা-ছাত্র যুব পরিষদ মনু-ধলই ভ্যালীর যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির এবং মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবন এমনিতেই অভাব-অনটনের মধ্যে কাটে। তার ওপর ঈদের আগে তলব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে। দ্রুত তলব পরিশোধ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে পরিবারগুলোকে ঈদের আগে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে হবে।
শাহিন আহমেদ/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: