কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যায় অভিযুক্ত সারোয়ারের দম্ভোক্তি
‘আমার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই!’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক বখাটের উপর্যুপরি মানসিক নির্যাতন, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে মীম আক্তার (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপে অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়াকে দম্ভোক্তি করে বলতে শোনা যায়, সে একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও আড্ডা দিয়ে বেড়ায় এবং বাবার টাকায় ঘুরে বেড়ায়—এসব তার বাবা নিজেই জানেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে কথা বলার কিংবা তার বাবার সামনে গিয়ে কিছু বলার মতো সাহস এই দুনিয়ায় কারও নেই বলেও সে প্রকাশ্য অহংকার করে।
একজন কিশোরীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করার পরও অভিযুক্তের এমন দাপুটে ও অসংবেদনশীল বক্তব্য স্থানীয় মানুষকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সানোয়ার দীর্ঘদিন ধরেই মীম আক্তারকে অনবরত হুমকি ও সামাজিক হেনস্থার মাধ্যমে মানসিক চাপে রেখেছিল। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী পথ বেছে নেয় মীম।
নিহত মীমের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, বখাটে সানোয়ারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে অন্য কোনো মেয়েরও নিরাপত্তা থাকবে না।
এদিকে ঘটনার পর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি। দ্রুত এই বখাটেকে আইনের মুখোমুখি করা না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হবে।
কমলগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করাসহ অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়াকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: