শ্রীমঙ্গলে ছড়ায় গোসল করতে নেমে কিশোরের মৃত্যু

শ্রীমঙ্গলে ছড়ায় গোসল করতে নেমে কিশোরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

০৩/০৬/২০২৬ ০৮:৪২:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নান্দনিক চা বাগান ঘেরা পাহাড়ি ছড়ার (খাল) পানিতে বন্ধুদের সাথে আনন্দ করে গোসল করতে নেমে রুদ্র তাঁতি (১৪) নামে এক কিশোরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে; মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের পর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজঘাট ইউনিয়নের খেজুরিছড়া চা বাগান এলাকায় এই বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ি ছড়ার অতল গহ্বরে তলিয়ে অকালে প্রাণ হারানো নিহত কিশোর রুদ্র তাঁতি স্থানীয় খেজুরিছড়া চা বাগানেরই বাসিন্দা ও ওই চা বাগানেরই নিয়মিত গাড়িচালক কমল তাঁতির একমাত্র আদরের পুত্র।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও চা বাগান পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তীব্র গরম থেকে বাঁচতে খেজুরিছড়া চা বাগানের কয়েকজন সমবয়সী বন্ধুর সঙ্গে রাজঘাট নার্সারি-সংলগ্ন ‘লাংলিয়া ছড়া’ নামের পাহাড়ি খালে আনন্দ উল্লাস করে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে যায় কিশোর রুদ্র; একপর্যায়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল ও জলকেলি শেষে তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা ছড়া থেকে একে একে তীরে উঠে এলেও হঠাৎ করেই রুদ্রকে আর কোথাও দেখতে পায়নি। পরবর্তীতে সহপাঠী শিশুরা রুদ্রকে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিষয়টি বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয়দের অবহিত করে।

হৃদয়বিদারক এই খবর পাওয়ার পরপরই পুরো চা বাগানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও কান্নার রোল পড়ে এবং আশপাশের এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন স্থানীয় সাহসী বাসিন্দা ও চা শ্রমিক একযোগে লাংলিয়া ছড়ার গভীর পানিতে নেমে নিখোঁজ রুদ্রের সন্ধানে এক চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন; এলাকাবাসীর প্রায় আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তীব্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অনুসন্ধানের পর ছড়ার তলদেশ থেকে রুদ্রের নিথর ও অচেতন দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে তাকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় খেজুরিছড়া চা বাগান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কিশোর রুদ্রকে চূড়ান্তভাবে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শিশুটি পানিতে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে উদ্ধার অভিযানের জন্য বিশেষভাবে অবহিত করা হয়েছিল; তবে ফায়ার সার্ভিসের টিম পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত তল্লাশিতে মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি পরবর্তীতে পুনরায় ফায়ার সার্ভিসকে নিশ্চিত করা হয়। রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য বৈশিষ্ট্য গোয়ালা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি উদ্ধার কাজের জন্য অবহিত করি; পরে স্থানীয় চা শ্রমিকদের সাহসী সহযোগিতায় রুদ্রের মরদেহ ছড়া থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অভিযোগ না থাকায় আজ বিকেলেই চা বাগানের শ্মশানে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী রুদ্রের শেষকৃত্য ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।”

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান আকঞ্জী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘চা বাগানের পাহাড়ি ছড়ায় এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার জরুরি খবর পেয়ে আমাদের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল সমস্ত লজিস্টিক সাপোর্টসহ সাথে সাথেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল; তবে গাড়ি রওনা হওয়ার ঠিক ১৩ মিনিট পর স্থানীয় ইউপি সদস্য পুনরায় ফোন করে আমাদের নিশ্চিত করেন যে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে নিজস্ব চেষ্টায় ছড়া থেকে রুদ্রের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এরপর আমাদের উদ্ধারকারী দলকে আর দুর্গম চা বাগান এলাকার ঘটনাস্থলে যেতে হয়নি এবং পথ থেকেই তারা স্টেশনে ফিরে আসেন।’


শাহিন আহমেদ/এআর

মন্তব্য করুন: