ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ১৫ স্থান

আতঙ্কে কমলগঞ্জের বাসিন্দারা

ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ১৫ স্থান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৮/০৬/২০২৬ ১৫:২৫:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া নদীটির অন্তত ১৫টি স্থান চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপারের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধলাই নদী এখন তীরবর্তী মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীটি উগ্র রূপ নেয়। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বাড়ে। এতে প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধস নামে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তত ১৫টি স্থান এখন ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল ও বখতিয়ারখোলা; মাধবপুরের হীরামতি ও কাটাবিল; আদমপুরের ঘোরামারা ও শুকুর উল্লাগাঁও; কমলগঞ্জ সদরের লঙ্গুরপার ও চৈতন্যগঞ্জ; কমলগঞ্জ পৌরসভার কুমড়াকাপন ও করিমপুর এবং রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট, উবাহাটা ও খুশালপুরসহ প্রায় ১৫টি স্থানে বাঁধের মাটি ধসে গেছে। কোনো কোনো স্থানে ৫০ থেকে ১০০ ফুটজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।


গত শনিবার সরেজমিনে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লঙ্গুরপার, হীরামতি ও চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এসব পয়েন্টে ভাঙতে ভাঙতে মাত্র এক ফুট অংশ অবশিষ্ট আছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো বাঁধ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে নদীপারের শতাধিক পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।


বাঁধের এমন জরাজীর্ণ দশায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ বা সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানো প্রয়োজন। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ব্যবস্থা না নিলে চরম বিপদে পড়তে হবে। তবে বারবার জোড়াতালির মেরামত না করে, পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।


লঙ্গুরপার গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সৌলেন্দ্র কুমার ভৌমিক বলেন, ‘আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। বাঁধের পাড় ভাঙতে মাত্র এক ফুট বাকি। বাঁধটি এখন অত্যন্ত দুর্বল। দ্রুত সংস্কার করা না হলে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।’


একই ধরনের শঙ্কার কথা জানান ঘোরামারা এলাকার বাসিন্দা তাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নদী আমাদের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর আমরা শুধু আশ্বাস পাই, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। বর্তমানে বাঁধের যে অবস্থা, তাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। এবার ঘরবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হবে।’


জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী গৌতম রঞ্জন দাস প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো মেরামত করার চেষ্টা করছি। যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে। ইতিমধ্যে লঙ্গুরপার ও কুমড়াকাপন এলাকায় বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।’


কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছাদুজ্জামান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ধসে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য তারা উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।’

তানজুমা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: