“সিলেটবাসীর আস্থাই আমার শক্তি, বাজেট গণবিরোধী ও উচ্চাভিলাষী”—অ্যাডভোকেট আফজাল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রহমান আফজাল শুক্রবার (১৯ জুন) নগরীর নয়াসড়ক জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
জুমার নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
গণসংযোগকালে অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুর রহমান আফজাল বলেন, “সিলেটের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নগর প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে চাই না, আমি পুরো সিলেটবাসীর প্রতিনিধি হতে চাই। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় তিনি সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি উচ্চাভিলাষী, ঋণনির্ভর ও গণবিরোধী বাজেট। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘাটতি দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না থাকায় সরকারকে আরও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি না করে উন্নয়নের নামে কাগুজে পরিকল্পনা জনগণের কোনো উপকারে আসবে না।”
অ্যাডভোকেট আফজাল অভিযোগ করেন, “এই বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাবে না। তাই এই বাজেট পুনর্বিবেচনা করে জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
গণসংযোগকালে তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে সেগুলোর সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নিজাম উদ্দিন, সদস্য সচিব মোঃ কিবরিয়া সরওয়ার, সদস্য প্রিন্সিপাল আব্দুর রহমান, জেলা সদস্য সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, বিমানবন্দর থানার যুগ্ম সদস্য সচিব রেজাউল কবীর, দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশক্তি মহানগরের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকবৃন্দ।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: