বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ৯ জন,আহত শতাধিক
Led Bottom Ad

ঘটনাবহুল ৫ আগষ্ট আজ

বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ৯ জন,আহত শতাধিক

ফয়সল চৌধুরী,হবিগঞ্জ

০৫/০৮/২০২৫ ১৬:১৯:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ঘটনাবহুল ৫ আগষ্ট আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কারকে ঘিরে সারাদেশে সূচিত আন্দোলনের উত্থাল সময়। সেই ঢেউ সারা দেশের মতো হবিগঞ্জেও লেগেছিল। ওইদিন জেলার বানিয়াচংয়ে এক বিভিষিকাময় পরিন্থিতির সৃষ্টি হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র-জনতার ক্ষোভ সেদিন রূপ নেয় একদফা হাসিনা পদত্যাগ আন্দোলনে। আর সেই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে বানিয়াচং। ওইদিন এখানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নয়জন, আহত হন শতাধিক।


জুলাইজুড়ে উত্তপ্ত ছিল রাজপথ। ১৯ জুলাই বানিয়াচং বড়বাজার শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পর রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


পুলিশ শুরু করে ধরপাকড়, হয়রানি। ২২ জুলাই বিএনপির ৯০ জন নেতাকর্মীর নামে ‘পুলিশ অ্যাসল্ট’ মামলা করে পুলিশ, অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে আসামি করা হয় আরও ৭০০ জনকে। পরদিনগুলোতে পাড়ায় পাড়ায় ঘরোয়া সভা করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।


৪ আগস্ট এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। দুপুরে বড়বাজার অভিমুখে মিছিল গেলে বাধা আসে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। জনাব আলী কলেজের সামনে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও ছররা গুলি ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


পরদিন, ৫ আগস্ট সকাল থেকেই কারফিউ ভেঙে দলে দলে মাঠে নামেন মানুষ। সকাল ১১টায় বড়বাজার শহীদ মিনারে গণমিছিল পৌঁছায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিছিলের একটি অংশ থানা অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা গুলি চালায়। শাহী ঈদগাহ এলাকায় মিছিলকারীদের ওপর চলে গুলিবর্ষণ। নিহত হন মোঃ হাসাইনসহ সাতজন। পরে হাসপাতালে মারা যান আনাছ ও আকিনুর। গুলিবিদ্ধ হন শতাধিক।


বিক্ষুব্ধ জনতা বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে। রাতে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, রাত ২টায় অবরুদ্ধ পুলিশদের উদ্ধার করে। ওই রাতে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন এসআই সন্তোষ চৌধুরী।


ঘটনার পরদিন শহীদ হাসাইনের বাবা মোঃ ছানু মিয়া ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রধান আসামি করা হয় সাবেক এমপি ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েলকে। মামলা ঘিরে ওঠে রাজনৈতিক ও পুলিশি বাণিজ্যের অভিযোগ। এখন পর্যন্ত ২৫ জন গ্রেপ্তার হলেও এক বছরেও চার্জশিট হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছেন পাঁচবার।


স্থানীয় সূত্র বলছে, তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘পেইড এজেন্ট’ ব্যবহার করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো হয় অপপ্রচার। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্র আন্দোলন।


শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, অনেক আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। তদন্তে ধীরগতিতে ক্ষোভ জানিয়ে তারা দ্রুত বিচারের দাবি জানান।


বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ খালেদ মিয়া বলেন, “৫ আগস্ট প্রমাণ করে কীভাবে একটি যৌক্তিক গণআন্দোলনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে নিরস্ত্র জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। আজও বুলেটবিদ্ধ মানুষ কাতরাচ্ছে, আর অপরাধীরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”


তদন্ত কর্মকর্তা ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, “আসামি গ্রেপ্তার ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে আমাদের অভিযান চলছে। তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে।”


নিহতদের মধ্যে যারা ছিলেনÑ বানিয়াচং উপজেলার ভাঙ্গারপাড়ের ছানু মিয়ার ছেলে হোসাইন মিয়া, জাতুকর্ণপাড়ার আব্দুন নূরের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, পাড়াগাঁওয়ের শমসের উল্যার ছেলে মোজাক্কির মিয়া, পূবগড়ের ধলাই মিয়ার ছেলে সাদিকুর রহমান, কামালখানীর মৃত আলী হোসেনের ছেলে শেখ নয়ন হোসেন, সাগর দিঘীর পূর্বপাড়ের মোশাহিদ আখঞ্জীর ছেলে সোহেল আখঞ্জী, চানপুরের মৃত তাহের মিয়ার ছেলে আকিনুর রহমান ও খন্দকার মহল্লার আবুল হোসেনের ছেলে আনাস মিয়া।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad